বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আমার নাম তারেক, লিখে দিয়েছে বারেক’

এনআইডিতে নামের ভুল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি কৌতুক শেয়ার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম একজন জোক করে দিয়েছে যে—আমি গিয়ে কমপ্লেইন করছি, আরে ভাই আমার নাম তারেক, লিখে দিয়েছে বারেক।”

গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ-এর মেজবান হলে আয়োজিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের বিপরীতে এ কৌতুক শেয়ার করেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টে থাকা ছবি এবং বাস্তবের চেহারার মধ্যে পার্থক্যের কারণে বিড়ম্বনার কথা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নথিপত্রের এই ‘অদক্ষ ব্যবস্থাপনার’ কারণে ইউরোপীয় এম্বাসিতে বাংলাদেশিদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

প্রশ্নকর্তা ওই শিক্ষার্থী বলেন, “নাগরিক হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড পাওয়া আমাদের অধিকার। কিন্তু এই অধিকার পেতে আমাদের যে পরিমাণ ঝামেলা পোহাতে হয়… আমরা চাই আপনি যেভাবে খুব সংক্ষেপে এবং ঝামেলামুক্তভাবে আইডি কার্ড করতে পেরেছেন, আমরা প্রত্যেকে সেভাবে করতে চাই।”

এনআইডি কার্ডের ছবির মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিশেষ করে আইডি কার্ডের ভুল এবং ছবি। আপনি যদি আইডি কার্ডের ছবির দিকে তাকান… আমরা যদি কোনো ইউরোপিয়ান এম্বাসিতে যাই, তখন আমাদের দিকে একবার তাকায়, আর পাসপোট বা এনআইডি কার্ডের দিকে দশবার তাকায়। তারা চিন্তা করে বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ চলছে কি না! তাদের ছবির এই অবস্থা কেন?”

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করে ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “চীন এবং জাপান যখন ২০৫০ সালের কথা চিন্তা করছে, সেখানে আমরা বাংলাদেশের মানুষ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড সংশোধন করতে করতে জীবন পার করছি।”

জবাবে তারেক রহমান স্বীকার করেন যে, তার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল। তিনি বলেন, “আনফরচুনেটলি বা ফরচুনেটলি আলহামদুলিল্লাহ আমার পক্ষে খুব ইজি হয়েছে কাজটা করতে। আমি অস্বীকার করছি না, স্বীকারই করছি।”

এই সমস্যা সমাধানে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রসেসটাকে ইজি করতে হলে জিনিসটাকে যত ডিজিটালাইজ করতে পারব, তত কারেকশনসহ আপনি ঘরে বসেই জিনিসটা করতে পারবেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটা সম্ভব হয়েছে। আপনার কাছে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থাকলেই আপনি কাজটা করতে পারবেন।” তিনি আরও বলেন, “সিস্টেমটাকে আমাদের ইজি করতে হবে। যদি আমরা ডিজিটালাইজ করি, তাহলে করাপশন বা যেসব সমস্যা আছে তা অনেকাংশে কমে আসবে।”

একই শিক্ষার্থী খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন মেশানো রোধে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “এই বিষয়টা ঠিক করতে হলে আমাদের কনশাস (সচেতনতা) ঠিক করতে হবে। এটা সরকারের একার কাজ না। এটা আমার, আপনার, আমাদের সকলের কাজ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।”

খাদ্যে প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, “খাবারে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রিজারভেটিভ দেওয়া হয়, এটা বিদেশেও হয়। আমাদের দেশে যারা অসৎ ব্যবসায়ী, তারা অতিরিক্ত বেশি দিয়ে দেয় অথবা তাদের ধারণা নেই। তখনই জিনিসটা পয়জন (বিষ) হয়ে যায়।”

এই ‘ইয়ুথ পলিসি টক’-এ চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে আসা বিএনপি চেয়ারম্যান দুপুরে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে যোগ দেন। এরপর তিনি বিকেল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাহ মাঠ এবং রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।