বুধবার – ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রেণিকক্ষ থেকে হিমালয়— এক শিক্ষকের সাহসে জেগে উঠল শত স্বপ্ন

শ্রেণিকক্ষে তিনি গণিত পড়ান। আর ছুটির সময়, পাহাড় তাঁকে ডাকে। ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্ক আর হিমালয়ের আঁকাবাঁকা পথ; দুই জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের স্বপ্নকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলা এক বাংলাদেশি শিক্ষক এবার পৌঁছে গেলেন বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং অন্যতম বিপজ্জনক পর্বত অন্নপূর্ণার বেসক্যাম্পে। পর্বতারোহণে মৃত্যুর হার বিবেচনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেই পর্বতে দাঁড়িয়ে তিনি উড়িয়েছেন বাংলাদেশ ও চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের পতাকা। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন—বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা উড়ানো যেমন জাতীয় গর্বের বিষয় তেমনি হিমালয়ের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গণে স্কুলের পতাকা ওড়ানোও সত্যিই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এতে যেমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফুটে ওঠে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কচি মনে সাহস, স্বপ্ন ও বিশ্বকে কাছ থেকে দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষাও জাগিয়ে তোলে।

চিরাচরিত নিয়মে স্কুল-ক্যাম্পাস, বার্ষিক প্রতিযোগিতা বা জাতীয় দিবসের মঞ্চে পতাকা উড়ানো দৃশ্যের বিপরীতে হিমালয়ের বুকে সগর্বে স্কুলের পতাকা উড়ানো সেই শিক্ষকের নাম জকি ওসমান (৩৫)। বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের শিকদার পাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলে গণিতের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

অন্নপূর্ণায় স্কুলের পতাকা উড়ানোর ব্যাপারটিকে শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত পাঠ বলে বোধ করেন শিক্ষক জকি ওসমান। তিনি বিশ্বাস করেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা শুধু বই পড়ান, তা কিন্তু না। শিক্ষকদের অভ্যাস, জীবনযাপন, সাহস, স্বপ্ন—সবকিছুই শিক্ষার্থীরা নীরবে শেখে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—‘বেসিক্যালি টিচারদের দেখে অনেক শিক্ষার্থী ইনস্পায়ার্ড হয়। শিক্ষকদের অভ্যাস-কর্ম ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মাঝে অটো অবজার্ভড হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যখন দেখবে তাদের একজন শিক্ষক এত কষ্ট করে হিমালয়ে ট্রেক করেছেন, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের পজিটিভ ভাইব তৈরি হবে, আমরাও একদিন পারব।

‘আমি শুধু নিজের জন্য যাইনি। গিয়েছি আমার স্কুলের জন্য, ছাত্রছাত্রীদের জন্য’ উল্লেখ করে জকি ওসমান বলেন, আমি এ অর্জনের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের একটা বার্তা দিতে চেয়েছি। হিমালয়কে কাছ থেকে দেখার ব্যাপারে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে চেয়েছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপট তাদের মনে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছি। বলতে চেয়েছি—তোমরা চাইলেও যেতে পারো। পাঠ্যবইয়ের বাইরে পৃথিবী আরও বড়, আর সাহস থাকলে সেই পৃথিবীকেও ছুঁয়ে দেখা যায়। এজন্যই অন্নপূর্ণার বেসক্যাম্পে দাঁড়িয়ে স্কুলের পতাকা নিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও করা। পরে ফিরে এসে সেই ছবি, ভিডিও, অভিজ্ঞতা—সবই দেখিয়েছি শিক্ষার্থীদের। আর তখনই শ্রেণিকক্ষে শুনতে পেয়েছি এক অন্যরকম সাড়া,` অভিনন্দন স্যার! আমরাও একদিন যাব!‘। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? এখন আমার মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখছে—এটাই তো আমার প্রাপ্তি।

জানা যায়, জকি ওসমানের জীবনের দুই বড় ভালোবাসা—মিউজিক আর ভ্রমণ। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভেতরে ছিল অজানাকে ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্খা থেকেই সম্প্রতি তিনি নেপালের ৪১০০ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প(ABC) জয় করেছেন । শুধু বেসক্যাম্পই নয়, অনুমোদিত সীমা ৪১০০ মিটার পর্যন্ত হলেও তিনি সেখান থেকে আরও প্রায় ২০০ মিটার উপরে উঠে নিজের সাহস, সংকল্প ও স্বপ্নপূরণের গল্পকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন। চলতি সপ্তাহে ট্রেড ট্রিবিউনের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন সেই পর্বত জয়ের দুঃসাহসিক গল্পের কথা।

এছাড়া শিক্ষকতা পেশায় আসার পেছনেও ভিন্ন এক গল্প রয়েছে জকি ওসমানের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সফলতার সাথে সম্পন্ন করে প্রথমে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর মন টেকেনি। কারণ চাকরিতে ভালো আয়-উপার্জন হলেও শখের মিউজিক ও ভ্রমণে তিনি সময় দিতে পারছিলেন না। পাননি  সৃজনশীল কিছু করার সুযোগ। তাই তিনি বেছে নিলেন শিক্ষকতা পেশা। যাতে বাচ্চাদের শেখানোর আনন্দের পাশাপাশি ভ্রমণ ও সংগীতের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করতে পারেন। বিশেষত, এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম-এর কিছু ক্লাস পাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর এ শিক্ষকতা চিন্তাকে আরও গভীর করে তোলে।

শিক্ষকতা-পেশার প্রতি অনুপ্রাণিত হওয়ার পেছনে এলিমেন্টারি স্কুলের সাথে শিক্ষক ওসমানের আরও একটি মানবিক যোগসূত্র আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রয়াত নাদেরা বানু ম্যাডাম নিজেই তাঁর ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, নাদেরা বানু ম্যাডাম তাঁর শিক্ষক ড. জামাল নজরুল ইসলামের বোন। তখন বিষয়টি তাঁর কাছে শুধু চাকরি হিসেবে নয়, যেনো এক ধরনের আত্মিক সংযোগে পরিণত হয়ে উঠে। সাক্ষাতকারের এ পর্যায় এসে প্রয়াত অধ্যক্ষ নাদেরা বানুকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শিক্ষক জকি ওসমান। তিনি বলেন, নাদেরা বানু ম্যাডাম আমাকে প্রচণ্ড স্নেহ করতেন, এমনকি একটি `বিশেষ বিষয়ে‘পড়াশোনার জন্য পৃষ্ঠপোষকতাও করেছিলেন। এ সময় তিনি প্রয়াত এ শিক্ষানুরাগীর জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, আল্লাহ যেনো তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।

‘অন্নপূর্ণার বেসক্যাম্প জয়‘ করা শিক্ষক জকি ওসমানের জীবনে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রেক হলেও, পাহাড়ের সঙ্গে জকি ওসমানের সম্পর্ক অনেক আগ থেকেই। দেশের ভেতরে যেসব উচ্চশিখর ও দুর্গম ট্রেইল ট্রেকারদের কাছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত, তার অধিকাংশই তিনি অতিক্রম করেছেন। তিনি জানান —২০১৮ সালে কেওক্রাডং, ২০২১ সালে কির্সতং, ২০২২ সালে রুংরাং, থানচির দেবতাপাহাড়, পালং খিয়াং-সহ বান্দরবানের বহু দুর্গম চূড়া অতিক্রম করেছেন। এ দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতাই তাঁকে একসময় দেশের পাহাড় পেরিয়ে হিমালয়ের দিকে তাকাতে শিখিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `বাংলাদেশের ভেতরে মোটামুটি যতগুলো হাইয়েস্ট পিক আছে, বেশিরভাগই আমার কভার করা হয়ে গেছে। তাজিংডংয়ে তখন পারমিশন ছিল না বলে পুরোপুরি উঠতে পারিনি। সাকা হাফংয়েও চেষ্টা করেছি, পরে সেনাবাহিনী আটকে দিয়েছিল।

অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প জয়ের চার দিনের ভয়ঙ্কর-ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাপথের কথা তুলে ধরে জকি ওসমান বলেন, তিনি নেপালে যান ১৩ মার্চ। সেখানে ১১ দিন অবস্থান করেন । আর ট্রেকিং শুরু করেন ১৫ মার্চ থেকে। ধাপে ধাপে তিনি এগিয়েছেন অন্নপূর্ণার পথে। ১৫ মার্চ প্রায় ২,০০০ মিটার উচ্চতার জিনু, এরপর ২,৫০০ মিটার উচ্চতার লোয়ার সিনুয়া, তারপর ৩,২০০ মিটার উচ্চতার দেওরালি, সেখান থেকে ৩,৭০০ মিটার উচ্চতার মাচাপুচরে বেসক্যাম্প (MBC) এবং সবশেষে ১৮-১৯ মার্চের মধ্যে ৪,১০০ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প (ABC)। পোখারা থেকে অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে এ নিয়ে তাঁর সময় লেগেছে চার দিন।

এই সময়ে তিনি শুধু অন্নপূর্ণাই নয়, পুনহিল-সহ আরও কয়েকটি ট্রেকও সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো—এই ট্রেকিংয়ের চারদিন তিনি রোজা রেখেই সম্পন্ন করেছেন। যেখানে একজন সাধারণ ট্রেকারের জন্যও অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প যাত্রা কষ্টসাধ্য। সেখানে ৪ হাজার মিটার উচ্চতায়, ঠাণ্ডা, ক্লান্তি, অক্সিজেনস্বল্পতা—সবকিছুর মধ্যে রোজা রেখে হাঁটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয়। তিনি বলেন, চারদিন রোজা রেখে ট্রেকগুলো শেষ করেছি। শুধু ডি-হাইড্রেশনের ভয়ে একদিন রোজা রাখতে পারিনি। রোজা রেখে এটা করা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।

অন্নপূর্ণা যাত্রায় সবচেয়ে কঠিন যাত্রা অংশ শুরু হয় দেওরালি ট্রেকিংয়ের পর। জকি ওসমান বলেন—ওই অংশে ঢুকার আগ থেকেই তাঁরা স্নোফল বা তুষারপাতের মুখে পড়েন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, কাঁপন ধরানো বাতাস, আর সামনে অনিশ্চিত পথ। জকি ওসমান বলেন, তিনি জীবনে এমন ঠাণ্ডা আর কোথাও অনুভব করেননি। ওয়েদার তখন একেবারে মাইনাসে নেমে গেছে। ভাগ্য ভালো যে, তাঁর সঙ্গে রেইনকোট ছিল । এরপর ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন। কিন্তু ভয়ের জায়গা ছিল অন্যত্র, তা হচ্ছে— ভূমি বা তুষারধস। জকি ওসমান বলেন, যখন তুষারপাত হয়, তখন ভূমিধস আর তুষারধসের ঝুঁকি বাড়ে। তুষারধস যদি গায়ে পড়ে, বাঁচার উপায় নেই। শুধু ভয়ই নয়, ছিল অনভ্যস্ততা। তুষারের ওপর কীভাবে পা ফেলতে হয়, কীভাবে ভারসাম্য ধরে রাখতে হয়, সেসব তাঁর আগে জানা ছিল না। ফলে প্রথমে খানিকটা ঘাবড়ে যান।তারওপর তাঁর গাইডও তখন কিছুটা সামনে চলে গিয়েছিল। পরে ফিরে এসে খুব কাছ থেকে শিখিয়ে দেয়—তুষারের ওপর হাঁটার নিয়ম। ছিল মৃত্যুঝুঁকির সামনে এগোনোর সিদ্ধান্ত। জকি ওসমানের মতে, পুরো অভিযাত্রার এ অংশটুকুই যেনো সবচেয়ে ত্রিলিং অধ্যায়।

এরপর অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে পৌঁছেও আরেকটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। সেদিন রাতে তাঁর ঘুমই হয়নি। প্রথমে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও গাইড তাঁকে জানায়—এটি স্বাভাবিক ঘটনা। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন লেভেল কমে যায়, ফলে অনেকেরই এমন হয়। তিনি বলেন— তিন হাজারর মিটার পেরিয়ে, শূণ্য ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা, ক্লান্ত শরীর, ঠাণ্ডা আর অচেনা পরিবেশ; সব মিলিয়ে সেটিও ছিল এক ভিন্নরকম পরীক্ষা। শরীরজুড়ে কিলবিল করছিল ভয়জাগানিয়া অনুভূতি কারণ ৪১০০ মিটার উচ্চতায় যে-কোনো মুহূর্তে যে-কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগজনিত সমস্যা, অল্টিটিউড সিকনেস, তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানিও। তবে আল্লাহর রহমতে, ঘুমের সমস্যা ছাড়া বড় কোনো জটিলতা হয়নি।

মজার তথ্য হচ্ছে— এ দুর্গম যাত্রার ফাঁকে জকি ওসমান ভুলেননি তাঁর মনের ভেতর গেঁথে থাকা আরেক শখ সংগীত-প্রেমের কথা। তাই নেপালে যাওয়ার সময় তিনি সাথে করে নিয়েছিলেন একটি উকুলেলে। দিনভর বরফ, পাথর, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সন্ধ্যায় বেসক্যাম্পে বা কোনো নির্জন সুন্দর জায়গা পেলেই তিনি উকুলেলে হাতে বসে পড়তেন। গাইতেন বাংলা গান। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই বন্ধু—একজন বাংলাদেশি, একজন নেপালি। ছিলেন গাইডও। আশপাশে থাকা বিদেশি ট্রেকাররা থেমে যেতেন, আর অবাক হয়ে শুনতো অচেনা ভাষার সুর। কেউ জানতে চাইতো—এটা কী ভাষার গান? কেউ বা মুগ্ধ হয়ে শুনত। কেউ বা গান শেষে দিতো হাততালি। এ দৃশ্য যেনো অন্নপূর্ণার বরফে বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক কোমল স্বাক্ষর।

অন্নপূর্ণার সামনে দাঁড়িয়ে আপনার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি কী? —জবাবে তিনি বলেন, হিমালয়ের ৮ হাজার মিটারের দানবাকৃতি পর্বতশ্রেণি সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ বুঝতে পারে—সে কত ক্ষুদ্র। আহা, মহান আল্লাহর সৃষ্টি কতই না সুন্দর। এসবের তুলনায় আমরা খুবই নগণ্য মানুষ। আপনি ওখানে গেলে খুবই বিনয়ী হয়ে যাবেন। মনের মধ্যে কোনো অহংকার থাকবে না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উঠতেই জকি ওসমানের কণ্ঠে ধরা পড়ে আরও বড় স্বপ্নের আভাস। স্বপ তাঁর—একদিন এভারেস্ট ছোঁয়া। তবে সেই স্বপ্নে পৌঁছাতে তিনি বেছে নিয়েছেন ধৈর্যের পথ, ধাপে ধাপে প্রস্তুতির পথ। তাই আপাতত বেসক্যাম্প দিয়েই শুরু। আর আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে ৬ হাজার মিটারের কোনো একটি চূড়ায় সামিট করার প্রত্যয়। এরপর আরও বড় লক্ষ্য।

সাক্ষাতকারের শেষদিকে এসে মনে হলো—অন্নপূর্ণার বুকে স্কুলের পতাকা উড়িয়ে যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মনে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনেছেন, তাঁর নিজের স্বপ্নের আকাশও এখনো অনেক উঁচু। আমার বিশ্বাস, সেই দিগন্তের একেবারে শেষ প্রান্তে হয়তো একদিন দাঁড়িয়ে থাকবে এভারেস্ট।