রবিবার – ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রবিবার – ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্প!

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অল্প সময়ে এতো বার কম্পনে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত (৬ ফেব্রুয়ারি) মাঝরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এসব কম্পন হয়। এরমধ্যে রাত দেড়টা নাগাদ সিকিমের গেলসিং এলাকায় প্রথম মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ ও উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এটি ছিল প্রধান কম্পন, যার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় একের পর এক আফটারশক।

এনসিএস জানিয়েছে, পরবর্তী সাড়ে চার ঘণ্টায় আরও ১২ বার কেঁপে ওঠে সিকিম। এর মধ্যে মঙ্গন এলাকায় ৭টি ও নামচিতে ৪টি কম্পন রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রাজধানী গ্যাংটকেও ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়।

এদিকে মধ্যরাতে একের পর এক ভূমিকম্পের জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূমিকম্পের অনুভূতি শেয়ার করেছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় হোটেল ও বাড়িঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন কয়েক হাজার মানুষ। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে সিকিমের এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে কম্পন অনুভূত হয় ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। তবে কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।