বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুতা আমদানিতে শুল্ক—একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ

সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বন্ড সুবিধা বাতিল হবে পোশাকশিল্পের জন্য আত্মঘাতী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সুপারিশ কার্যকর হলে প্রতিযোগিতার বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি নতুন সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে বিদেশি কোনো কোনো ব্র্যান্ড-ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশের খবরে পোশাকের দাম বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ জানিয়েছে। এ ছাড়া সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগেই দেশীয় কোনো কোনো বস্ত্রকল সুতা ও কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

গতকাল সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য তুলে ধরেছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। শুল্ক আরোপের সুপারিশ কার্যকর না করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেন লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকরাই দেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার একমাত্র ক্রেতা। অথচ সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের মতো স্পর্শকাতর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাকশিল্পের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মতামত পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে এই সুপারিশ করা হয়েছে, যা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারের এই পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। আর প্রত্যাহার করা না হলে শিল্পের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতির মধ্যে মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। পরিচালকদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সুমাইয়া ইসলাম, কাজী মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ সোহেল ও জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির।

প্রসঙ্গত, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রপ্তানি উপাত্ত পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ভারত থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংরক্ষণের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের দাবি এবং বিটিটিসির সুপারিশকে সমর্থন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, আমদানি করা সুতার চেয়ে ২০ সেন্ট বেশি হলেও তারা স্থানীয় সুতা ব্যবহার করতে চান। তবে ৩০ থেকে ৬০ সেন্ট বেশি হলে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সম্ভব নয়।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই দেশীয় কোনো কোনো বস্ত্রকল ইতোমধ্যে সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, বিটিএমএর সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। দেশীয় বস্ত্র এবং পোশাকশিল্পকে বাঁচাতে একটা ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে আসা উচিত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাকের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, স্থানীয় সুতা ব্যবহারে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা এখন আর পাওয়া যায় না। ব্যাংকগুলো এ ধরনের অর্থ ছাড় করতে চায় না। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত এই অর্থ ছাড় করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুপারিশ প্রত্যাহার চেয়ে অর্থ উপদেষ্টাকে চিঠি

 
এদিকে পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পক্ষ থেকে। গত রোববার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় পশ্চাৎসংযোগ শিল্পের সুরক্ষায় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সমাধান নয় বরং সংকট বহুগুণ বাড়াবে। এতে প্রতিযোগী সক্ষমতা কমবে