মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আয়-উদ্বৃত্তে চট্টগ্রাম বন্দরের ‘চমক’

চট্টগ্রাম বন্দর গত পাঁচ বছরে রাজস্ব, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অভাবনীয় সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের গড় রাজস্ব আয় বৃদ্ধির হার ১৩.০৮ শতাংশ, আর উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি ১৮.৪২ শতাংশ—এটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক শক্তি প্রমাণ করছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। ফলে ওই বছর উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ৫ হাজার ৭৬ কোটি এবং ব্যয় ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ১৪৩ কোটি, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছরই আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল বছর; ওই বছরে রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০২৩ সালে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ২০২৫ সালেও রাজস্ব আয় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে ২০২৪ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশে পৌঁছেছিল, এরপরই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বাড়ানো হয়।

বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বন্দর থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও বছরভিত্তিকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার পর ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ১ হাজার ৫১৯ কোটি এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে কর, ভ্যাট ও করবহির্ভূত আয় মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।