ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ রোববার জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে। খবর রয়টার্স।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সূত্রমতে, এই আলোচনায় ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা, সাইবার যুদ্ধ, আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বিক্ষোভকারীদের জন্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এমনকি ইলোন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সচল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘কোনো ধরনের ভুল হিসাব করলে তার ফল হবে ভয়াবহ। ইরানে হামলা হলে অধিকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।‘
গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েও বিক্ষোভ দমানো যাচ্ছে না। তেহরান, মাশহাদসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে রাতভর মিছিল ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাস্তাঘাটে আগুন এবং মানুষের গগণবিদারী স্লোগান শোনা গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ দেখানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতরা ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের’ হত্যাকাণ্ডের শিকার।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি তেহরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।‘
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ হয়তো শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করবে না, তবে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরো দুর্বল করে তুলবে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইরের ভাষায়, ‘সরকার শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ দমন করতে পারে, কিন্তু আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে ওঠবে।‘
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইরান হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।‘
২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের ক্ষত এখনো শুকায়নি। তার ওপর বর্তমান এই অস্থিরতা ইরানকে আরো গভীর সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





