২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে সরকারে থাকার সময় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তবে পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যেই দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ (বাণিজ্যিক রাজধানী করার) গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।’
চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী—এটি কেবল কাগজেই; বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেছেন। আজ তারেক রহমানও সে প্রসঙ্গে কথা বললেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বন্দরনগর চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ চায় একটি নিরাপদ পরিবেশ। যে পরিবেশে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁরা এই চট্টগ্রামে ইপিজেড-কেইপিজেডের মতো অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করার উদ্যোগ নেবেন। এতে লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের যে সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে একটি অর্থনৈতিক হাব (অঞ্চল) হিসেবে গড়ে তুলব। এই হাব, এই অর্থনৈতিক জোন শুধু বাংলাদেশের জন্য হবে না, এই হাব হবে পুরো অঞ্চলের জন্য। আমাদের পাশে যে দেশগুলো আছে, আমাদের পূর্বে-পশ্চিমে সকলের জন্য। চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এর চেয়েও বেশি আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।’
চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি জনসভায় বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে বিশ্ববাণিজ্যের হাব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’
মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি মেয়র হওয়ার পর গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরীর চার লাখ পরিবারকে “স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড” দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছরে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।’





