মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে এসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে এই সফর ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে।

রোববার ( ২৫ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সরেজমিন দেখা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে ভোর থেকে মাঠে আসতে শুরু করেন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলা থেকে এসেছেন নেতা-কর্মীরা।

সকালের দিকে দেখা গেছে, পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের অংশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা জানান, প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আগ্রহ থেকেই তারা ভোরে মাঠে এসেছেন।

তারপর বেলা ১২টা ২১ মিনিটে সমাবেশস্থল তারেক রহমানের গাড়ি প্রবেশ করে।  কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে মুহুমুর্হু করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এসময় হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠ অবধি পৌঁছাতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সাড়া পেলেন তারেক রহমান। এসময় শহরের সরু রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পর্যন্ত মানুষের ভিড়ে চোখে পড়ল নিঃশব্দ শ্রদ্ধা এবং অন্তরিক সমর্থন। উপস্থিত জনতা তাকে দেখে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান, আবার কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান দিয়ে অভিনন্দন জানার।

পলোগ্রাউন্ডে দেখা গেছে, জনতার এই উৎসাহ ও সাদরে তারেক রহমান নিজেও স্পষ্টভাবে আবেগপ্রবণ ছিলেন। স্টেজে যাওয়া পথে  কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বললেন, হাতে হাত মেলালেন এবং তাদের সমস্যার প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। চট্টগ্রামবাসীর এই উত্তেজনা ও আন্তরিকতা পুরো সফরের সময় তারেক রহমানের আবহকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।

রাঙ্গুনিয়া থেকে আসা এক বিএনপি কর্মী বলেন, বহু বছর ধরে তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।

দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী জানান, অনেক নেতাকর্মী রাত থেকেই সমাবেশস্থলের আশপাশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, সকালের মধ্যেই প্রোগ্রাম শেষ করে ফিরে যাব—এমন পরিকল্পনা থেকেই আমরা আগে চলে এসেছি।

এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ যোগে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে,  চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন।

এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন। মঞ্চে প্রথম সারিতে ছিলেন—বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য উদয় কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ নোমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সারোয়ার নিজাম, চট্টগ্রাম—৮ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এস এম ফজলুল হক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছড়ির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, কক্সবাজারের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ম্যামাসিং, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহবায়ক জেরি প্রো চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরে আরা সাফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার।

মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন—চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন ও চট্টগ্রামের-৭ আসনের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টকে’ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর লালখান বাজার মোড় হয়ে জনতার ভিড় পেরিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।

প্রসঙ্গত, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে এসেছেন তিনি। ২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে হিসাবে আজ দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দিলেন তারেক রহমান।