মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার – ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন উত্তাপ: কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে দেশটির সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সমস্ত কানাডীয় পণ্য ও সামগ্রীর ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’

ট্রাম্প তার পোস্টে ঠিক কোন চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ঘোষণা করেন এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হন।

শুরুতে কার্নির ওই পদক্ষেপকে ‘ভালো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের দাভোসে কার্নির একটি ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। ওই ভাষণে কার্নি মন্তব্য করেছিলেন যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থায় ফাটল ধরেছে।

কার্নি তার বক্তব্যে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই ‘বৃহৎ শক্তিগুলোর’ অর্থনৈতিক জবরদস্তির মোকাবিলায় বিশ্বের ‘মাঝারি শক্তিগুলোকে’ এক হওয়ার আহ্বান জানান। এর জবাবে পরদিন নিজের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই।’ একই সঙ্গে তিনি কানাডাকে তার নতুন ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করে নেন।

গতকাল শনিবারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, কার্নি যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ‘ড্রপ অফ পোর্ট’ (পণ্য খালাসের স্থান) হিসেবে ব্যবহার করবেন, তবে তিনি বড় ভুল করছেন।

এ বিষয়ে বিবিসি হোয়াইট হাউস এবং কার্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।

ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে না। যা অর্জিত হয়েছে, তা হলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।’

লেব্লাঙ্ক জানান, সরকার কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব জোরদার করতে মনোযোগী। ট্রাম্পের বারবার শুল্ক আরোপের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে কানাডা তাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্যের বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।

গত সপ্তাহে কার্নি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে চীন কানাডিয়ান ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে। বিনিময়ে কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ বা সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের হারে ৬.১ শতাংশ নির্ধারণ করবে।

বছরের পর বছর ধরে চলা টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পর এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে কানাডায় আরও চীনা বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কার্নি বলেছেন, চীনের সঙ্গে এই অগ্রগতি কানাডাকে ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করবে’।