সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নতুন বিনিয়োগ না হলে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের চাহিদাও বাড়ে না।
পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের পর ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়লেই ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’
বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার ১৫-১৬ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যবসায়ীদের মুনাফা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সুদহারে নতুন বিনিয়োগ কার্যত অসম্ভব।
ব্যবসায়ীরা গ্যাসসংকটের কারণে কারখানা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। এ সমস্যা বেশ কয়েক মাস ধরে তীব্র সংকট তৈরি করছে। তাতে দিনশেষে ব্যবসায়ীরা যা উৎপাদন করতে চাচ্ছেন, তা পারছেন না। বছর শেষে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর গ্যাসসংকট মোকাবেলা করতেও সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ বিষয়ে সরকারকে অনেকবার বলা হলেও সমাধান পাননি। ফলে নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছেও কম।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘নতুন ব্যবসা করতে গেলে গ্যাস ও বিদ্যুতের এক রকমের সংকট রয়েছে। বিনিয়োগ করার আগে আমাকে চিন্তা করতে হচ্ছে যে আমি গ্যাস পাব কি না। সরকার বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আমার নিজের কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে করতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে বেশি লাগার কারণে খরচ বেশি লেগেছে, তাতে মুনাফার ওপর এক রকম প্রভাব পড়েছে।’
বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো এই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে সরকারও ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হওয়ায় ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে প্রায় ১১ শতাংশ সুদ পাচ্ছে, যা কার্যত শতভাগ নিরাপদ। বর্তমানে অনেক প্রচলিত ব্যাংকের আয়ের বড় একটি অংশ আসছে এই খাত থেকে।
২০২৫ সালের শুরুতে যদিও আমানতের সুদহার বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের দুর্বল চাহিদা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।





