ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সিল মারা ব্যালটের ছবি। বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে পছন্দের প্রার্থীকে খুশি করতে সিল মারা ব্যালটের এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটার ও রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম সিটির কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মোবাইল বাইরে রাখতে বলা হলেও কেউ কেউ লুকিয়ে সাথে নিয়ে ঢুকে গিয়েছেন। ভেতরে গোপনে ছবি তুলে তা বাইরে গিয়ে প্রকাশ করাতে তাদের ধরতে পারছেন না।
ট্রেড ট্রিবিউনের হাতে আসা কুড়ি-বিশেক ছবি যাচাই করে দেখা গেছে—ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি প্রতীকে দেওয়া ভোটের ছবি বেশি দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এম. মনসুর আলম চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা একটি ব্যালট পেপারের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ সকাল বাংলাদেশ।’ মিজানুর রহমান মানের আরেক ব্যক্তি চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের মোমবাতি প্রতীকে সিল মারা ব্যালট পেপার শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ মোমবাতি প্রতীকে আস্থা রাখুন, মোমবাতি প্রতীকে ভোট চলছে, চলবে ইনশাআল্লাহ, চলমান রাখুন সত্যের পক্ষে সমর্থন।’
মো. শিহাব উদ্দিন নামের একজন কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, রামু) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারা ব্যালট পেপারের শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এদিকে কেবলয় ছবিই নয়, চট্টগ্রাম-৫ আসনের শওকতুল ইসলাম নামের একজন ভোটার সরাসরি ভোটকক্ষের ভেতরে সিল মারার পুরো প্রক্রিয়া ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এতে তাকে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ ভোটে সিল দিতে দেখা যায়। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা। Ctg-5 Mir Helal Bhai।’ এবং ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি নিজেকে বায়জিদ থানা ছাত্রদলের ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক উল্লেখ করেছেন।
ভোটকক্ষের গোপনীয়তা ভেঙে এমন প্রকাশ্যে ‘ভোট প্রদর্শন’ নিয়ে আইনজ্ঞ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সচেতন মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী—ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো ভোটের গোপনীয়তা। গোপন কক্ষ বা সিক্রেট বুথ: যেখানে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল মারেন, সেই গোপন কক্ষের কোনো ছবি বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাংবাদিক বা সাধারণ ভোটার কেউই সেখানে ক্যামেরা নিতে পারবেন না।
যদি কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিক গোপন কক্ষে প্রবেশের বা ব্যালট পেপারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন, আরপিও অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
আইনের তোয়াক্কা না করে ফেসবুকে গোপন ব্যালটে সিল মামার ছবি শেয়ার করার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন পোস্ট নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।





