একটি ছোট্ট বীজ থেকেই শুরু হয়েছিল যাত্রা। শিক্ষার্থীদের যত্নে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা হয়েছে, আর সেই চারাই এখন শিকড় গাড়ছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (AUW) মূল ক্যাম্পাসে। যেখানে একসঙ্গে রোপণ করা হয়েছে ৫০০টি মরিঙ্গা চারা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (AUW) মূল ক্যাম্পাসে এমনই ৫০০টি মরিঙ্গা গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে আরও সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এ উদ্যোগ নিয়েছে AUW-এর Green Bangle Project (GBP)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) AUW ক্যাম্পাসে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে AUW পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সঙ্গীতা রায়ামাঝি। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টিউলেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. ন্যান্সি মকও। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে Green Bangle Project-এর শিক্ষার্থী ও দলের সদস্যদের প্রশংসা করেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয় বরং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নচর্চাকে আরও শক্তিশালী করার একটি বাস্তব প্রয়াস। শিক্ষার্থীদের হাতেই বেড়ে ওঠা ৫০০টি মরিঙ্গা চারা। বীজ অঙ্কুরোদগম থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা এবং রোপণের উপযোগী করে তোলা—পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাঁরা। ফলে এই কর্মসূচি শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার একটি সুযোগও তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা এসব চারা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সেগুলোর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পরিচর্যা এবং পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবেন।
কেন মরিঙ্গা?
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় মরিঙ্গাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মরিঙ্গা পাতায় রয়েছে প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এতে ভিটামিন-এ-এর পূর্ব উপাদান, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। যদিও মরিঙ্গায় সরাসরি কোলাজেন থাকে না, তবে এতে থাকা ভিটামিন-সি মানবদেহে স্বাভাবিক কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান উদ্ভিদ
মরিঙ্গার জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ন্যান্সি মক বলেন, মরিঙ্গা একটি অত্যন্ত মূল্যবান উদ্ভিদ। এর গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ রয়েছে। মানুষ যত বেশি এ উদ্ভিদ সম্পর্কে জানবে এবং ব্যবহার করবে, তত বেশি সমাজ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, পুষ্টি, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশগত কার্যক্রমকে একসঙ্গে যুক্ত করে AUW যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ।
পুষ্টি থেকে জীবিকা—সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোসায়ে সেলভাকুমার পলরাজ মরিঙ্গাকে একটি সম্ভাবনাময় টেকসই খাদ্যসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরিঙ্গায় আয়রন, প্রোটিন, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন নিউট্রাসিউটিক্যাল উপাদান রয়েছে, যা বিশেষ করে নারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি টেকসই খাদ্যব্যবস্থা ও জীবিকা উন্নয়নেও অবদান রাখতে সক্ষম। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং সেবায় মরিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত করা এবং মরিঙ্গাভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবুজ ক্যাম্পাসের পথে আরেক ধাপ
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরিঙ্গা গাছ শুধু ক্যাম্পাসে সবুজের পরিমাণ বাড়াবে না। এটি জীববৈচিত্র্য, পুষ্টি সচেতনতা, পরিবেশ শিক্ষা এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। Green Bangle Project-এর মতে, প্রতিটি মরিঙ্গা চারা একটি গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে—একটি বীজের গল্প, যা নার্সারিতে শিক্ষার্থীদের যত্নে বেড়ে উঠে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে শিকড় গাঁথছে। ৫০০টি মরিঙ্গা চারা রোপণের এ উদ্যোগের মাধ্যমে AUW Green Bangle Project শুধু গাছ লাগাচ্ছে না বরং টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা এবং সুস্থ ভবিষ্যতের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলছে।







