কয়েক দিন ধরে অব্যাহত শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও ধানের চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও চারা পুরোপুরি মারা যাচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ সংকট শুধু বোরো ধানেই সীমাবদ্ধ নয়; শীতকালীন সবজিতেও এর বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি পোকার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘন কুয়াশার কারণে বীজ থেকে চারা গজাচ্ছে না। আবার অনেক বীজ গজালেও চারা হলদে বর্ণের হয়ে মারা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বীজতলা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন বীজতলার যে অবস্থা দেখা দিয়েছে, তাতে কীভাবে বোরো আবাদ হবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। নতুন করে চারা কিনে রোপণ করতে হবে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হবে কৃষকদের।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়াশা থেকে ফসলকে রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত তথ্য দিয়ে সতর্ক করতে হবে। এজন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। অবশ্য কৃষি অধিদপ্তর বলছে, তারা এ বিষয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া বোরোর পাশাপাশি শীতকালীন সবজিতেও কুয়াশার প্রভাব পড়েছে। বাড়ছে রোগবালাই। যশোর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজি আবাদে কৃষকের খরচও বেড়েছে।
যশোর সদর উপজেলার সাইতমাইল গ্রামের আইয়ুব হোসেন জানান, তিন বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করেছেন তিনি। এরই মধ্যে বেশির ভাগ সবজি তিনি তুলে ফেলেছেন। তবে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বৃদ্ধি কমে গেছে। বিভিন্ন সবজির পাতা কুঁকড়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে যাবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কনকনে শীত এবং অতিরিক্ত কুয়াশায় বোরো উৎপাদন বিশেষ করে বীজতলা তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে এবং বীজতলার চারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে শীতের তীব্রতা ও কুয়াশা যখন কমে যাবে তখন কৃষক অবশ্য এ ব্যাপারে অ্যাডাপ্টেশনের চেষ্টা করবেন। সে সময় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে হয়তো কৃষককে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া লাগতে পারে। এখানে কৃষি বিভাগের নজর থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত বাজারে এটার একটা বিরাট প্রভাব পড়বে। কারণ কুয়াশা ও শীতের কারণে বাজারে পরিবহনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে কিছু সবজি এবং বিশেষ করে চালের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। একদিকে তো কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে, আবার ভোক্তাদেরও ক্ষতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাজার মনিটরিং প্রক্রিয়াটাকে জোরদার করা দরকার। যাতে ভোক্তাকে প্রটেক্ট করা যায়। সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নজরদারি বাড়ানো দরকার।’





