দেশের প্রধান বন্দর ও কাস্টম হাউস চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আহরণেও তীব্র গতি দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস ৩১ হাজার ৬০২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। মূলত শুরুতে এই অর্থবছরের জন্য ৯২,১৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন উভয়ই ক্রমবর্ধমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৭ বছর আগে তুলনায় বর্তমানের রাজস্ব বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অবস্থার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বর্তমানে চিনি, ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে রাজস্ব আদায়ের ধারাটি বেশ ইতিবাচক রয়েছে। কাস্টমসের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছরের নির্ধারিত ১ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব হবে। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সার্ভার জটিলতা এবং পণ্য পরীক্ষা বা এক্সামিনেশন সংক্রান্ত কিছু বিড়ম্বনার কথা জানানো হয়েছে, যা নিরসন করা গেলে রাজস্ব আদায়ের গতি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতাও আগের চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বমানের বন্দরের তালিকায় এর অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশই এই বন্দরের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং করা হয়। ২০২৫ সালে এই বন্দর রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে, যেখানে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১০.৫ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১১.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ইউএস কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
বন্দরকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করতে বর্তমানে ‘পোর্ট ইকোসিস্টেম’ এবং ‘পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম’ প্রবর্তনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে বন্দরে নতুন ৭০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল ইয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে এবং ভারী পণ্য ওঠানামার জন্য লালদিয়া এলাকায় নতুন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বে টার্মিনালে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মূলত আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর এখন দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।