বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশুখাদ্যে টক্সিন: বাজার থেকে পণ্য সরাচ্ছে নেসলে

খাদ্য ও পানীয় জায়ান্ট নেসলে তাদের বেশ কিছু নির্দিষ্ট ব্যাচের শিশুখাদ্য বিশ্ববাজার থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পণ্যগুলোয় ‘সিরিউলাইড’ নামক এক ধরণের ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ উপাদান শিশুদের ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। খবর বিবিসি।

নেসলে জানিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচ বর্তমানে ব্যবহারের জন্য অনিরাপদ। মূলত সরবরাহকারীর কাছ থেকে আসা একটি উপাদানের সমস্যার কারণে এ টক্সিন ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শিশু অসুস্থ হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছি নেসলে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহার প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে কার্যকর করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি। এরমধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের গুইগোজ ও নিডাল, জার্মানির বেবা ও আলফামিনো, ব্রিটেনের এসএমএ। এছাড়া অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ইতালি ও সুইডেনেও এ পণ্যগুলো বিক্রি হয়েছে।

সিরিউলাইড মূলত ‘ব্যাসিলাস সিরিয়াস’নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন এক ধরণের বিষাক্ত উপাদান। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো: দ্রুত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। সেইসঙ্গে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা বা খিঁচুনি। ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি জানিয়েছে, টক্সিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। সাধারণ রান্নার তাপমাত্রা, ফুটন্ত পানি বা দুধ তৈরির সাধারণ পদ্ধতিতে এটি নষ্ট হয় না। আর তাই নেসলের পণ্য কেনার আগে পাউডার ফর্মুলার টিনের নিচে বা প্যাকেটের গায়ে থাকা কোড চেক করতে বলা হয়েছে। নেসলে-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট food.gov.uk- বা সংশ্লিষ্ট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পোর্টালে কোডগুলোর তালিকা দেয়া আছে।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য বাবা-মা ও পরিচর্যাকারীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

নেসলে আরো স্পষ্ট করেছে যে, উল্লেখিত নির্দিষ্ট ব্যাচগুলো ছাড়া তাদের অন্যান্য সকল পণ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিক্রিত পণ্যে কোন আক্রান্ত ব্যাচের হলে পূর্ণ মূল্য ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নেসলে। খবর: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম