বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতের তীব্রতা কি আরও বাড়বে?

ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপটে মনে হয়েছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রভাব খানিকটা বেশি এবং স্থায়ী হতে পারে। আরও অন্তত তিনটি শৈত প্রবাহ আসতে পারে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তরও। যদিও জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। সন্ধ্যার পর এবং শেষ রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হলেও দিনের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, শৈত প্রবাহ এখনও চলমান রয়েছে, তবে এর এলাকা কমেছে। কদিন আগে দেশের ৫০ থেকে ৫৪টি জেলায় একসাথে শৈত প্রবাহ বয়ে গেছে কিন্তু আজকে (শুক্রবার) তিনটি জেলায় এবং আগামীকাল দেশের চারটি জেলায় মৃদু শৈতপ্রবাহ থাকবে। মূলত সূর্যের তাপের কারণে দিনের তাপমাত্রার সঙ্গে রাতের তাপমাত্রায় বড় ফারাক তৈরি হয়েছে বলেও জানান কাজী জেবুন্নেসা।

তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েকদিনে দিনের তাপমাত্রা আরও একটু বাড়তে পারে। যাতে শীতের দাপট আরও কমে আসবে। যদিও দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শীতের প্রভাব থাকবে। ঢাকায় শীত হয়তো খানিকটা কমে গেছে, ঢাকায় আরো দুইদিন এমনই হয়তো থাকবে, দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। এক সপ্তাহ মোটামুটি এরকমই থাকবে।

কদিন আগে যেমন কনকনে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়েছে সেরকম পরিস্থিতি আর হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এই আবাহাওয়াবিদ বলছেন, না, ওরকম আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার এমন হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের ব্যবধানের কথা বলছেন মিজ জেবুন্নেসা।

তিনি জানান, কদিন আগে দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় খুব কম তফাৎ ছিল, আমাদের রেকর্ডও বলতে পারেন, এক দশমিক সাত ডিগ্রি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেটা অনেকটা বেড়ে গেছে।”চলতি মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও খানিকটা বেড়ে শীতের অনুভূতি আরও কমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। শীত ওইরমকভাবে যে আরও বাড়বে সেটা হবে না। এবছর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাত ডিগ্রির নিচে নেমেছিল। রাজধানী ঢাকায়ও সর্বনিম্ন তাপমাত্র এগারো ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া অফিসের সবশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। আগামী তিনদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। অর্থাৎ দিনের বেলায় শীতের প্রভাব আরও কমে আসবে। অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও শীতের অনুভূতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। শীত বিদায় নিয়েছে বলা যাবে না তবে অনেকটা এরকম থেকেই এবছর বিদায় নিতে পারে। যদিও উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি খানিকটা কমে আসায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে, যেখানে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল, সেখানেও বেশিরভাগ জেলায় রোদের দেখা মিলছে।