– – 

– – 

‘অহিংস বিশ্ব গড়তে সত্যপথ দেখাবে কবীর-লালনের দর্শন’

হেমন্তের সাঁঝবেলায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জ্বলে উঠল মঙ্গল প্রদীপ। আর তার পরপরই প্রাঙ্গণজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল মরমি সুরের আবেশ। উপলক্ষ ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’।

লালন বিশ্বসংঘের উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের আটটি বিভাগজুড়ে চলা এই উৎসবের সপ্তম আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হলো গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায়।

সুর আর দর্শনের এই মিলনমেলায় দাঁড়িয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম বললেন, আগামী দিনের অহিংস বিশ্ব গড়ে তুলতে সন্ত কবীর ও ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শনই মানবজাতিকে সত্যপথ দেখাবে।

bKash

মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। উদ্বোধনী কথামালায় সন্ত কবীর থেকে লালন ফকির পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শ বছরের দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ও মানবিক অভিযাত্রার কথা তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, এই দুই মহান সাধকের চিন্তা ও দর্শন এক বিন্দুতে মিলে নতুন এক চেতনার জন্ম দিয়েছে। তাঁদের সুরের প্রবল দোলায় দেশ, কাল, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও জাতপাতের নামে তৈরি সব কৃত্রিম বিভাজন ও বিদ্বেষের দেয়াল ভেঙে পড়ে। আর তাই হিংসামুক্ত পৃথিবী গড়তে আজও তাঁদের দর্শন ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী এবং কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শেখ সাদী। বক্তাদের কথায়ও উঠে আসে দুই সাধকের মানবতাবাদী দর্শনের নানা দিক।

কথামালার পর শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ। মঞ্চে আসেন ‘কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশন’-এর শিল্পীরা। তাঁরা পরিবেশন করেন ‘কবীর থেকে লালন : চিরন্তন প্রেমের এক অক্ষয় বন্ধন’ শীর্ষক বিশেষ সংগীতালেখ্য। সন্ত কবীরের ভজন-দোহা আর লালন সাঁইয়ের মরমি গানের যুগলবন্দীতে মুহূর্তেই বুঁদ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। পাঁচ শ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে দুই সাধকের মানবপ্রেমের বাণী যেন একাকার হয়ে যায় শিল্পকলার এই কার্তিকের সন্ধ্যায়।

এমএনআ/কামাহচৌ