কেউ এসেছেন দূর ফটিকছড়ি থেকে, কেউ হাটহাজারী, কেউবা দেশের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জশনে জুলুসে যোগ দিতে আসা এসব মানুষের অনেকেরই প্রয়োজন একটু পানি, সামান্য খাবার কিংবা মুহূর্তের বিশ্রাম। সেই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই ষোলশহরে খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করেছেন অনেকে।
যেখানে জুলুস ময়দান ও আশপাশের এলাকায় আগত মুসল্লি ও মুসাফিরদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় নাস্তা, ফলমূল, সুপেয় পানির বোতল, শরবত, নানা ধরনের চকলেট ও টিস্যু পেপার। কারও হাতে খাবার, কারও হাতে পানির বোতল; এর কিছুক্ষণ পর আবার সবাই ফিরছেন জুলুসের স্রোতে।
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার জুলুস ময়দান ও আশপাশের এলাকায় এমনই এক উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রামের সহ-প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন খাঁন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আট শতাধিক মুসল্লি ও মুসাফিরের জন্য এসব খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করেন তিনি। সকাল থেকে জুলুস ময়দান ও আশপাশের এলাকায় মানুষের মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সাজ্জাদ হোসেন খাঁন বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ প্রিয়নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে জশনে জুলুসে অংশ নিতে এসেছেন। তাঁদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। একজন মানুষের হাতে এক বোতল পানি, একটু খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো সামগ্রী তুলে দিতে পারাও বড় একটি মানবিক কাজ। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’
সরেজমিন দেখা যায়, জুলুসকে ঘিরে চট্টগ্রামে তথা পুরো দেশ থেকেই মানুষের ব্যাপক সমাগম । দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা অনেক মুসল্লি ময়দানে পৌঁছানোর পর খাবার ও পানি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি পান। কেউ শরবত পান করছেন, কেউ নাস্তা বা ফলমূল নিয়ে আবার জুলুসের সারিতে যোগ দিচ্ছেন।
রাঙ্গুনিয়া থেকে জুলুসে অংশগ্রহণ করা মো. করিম বলেন, “জশনে জুলুস ঘিরে মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তা চোখে পড়ার মতো। কেউ পথের মানুষকে এক গ্লাস শরবত দিচ্ছেন, কেউ খাবার তুলে দিচ্ছেন, আবার কোথাও বড় পরিসরে বিরিয়ানির আয়োজন করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেকেই যেন এই আয়োজনে নিজের মতো করে অংশ নিচ্ছেন।”
শুধু সাজ্জাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগই নয়, জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে খাবার ও পানীয় বিতরণের আয়োজন দেখা গেছে। কোথাও শরবত, কোথাও নাস্তা, আবার কোথাও ফলমূল ও অন্যান্য খাবার; সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন অনেকে।
গরমের দিনে লাখো মানুষের ঢল, র্যালীতে ছুটে ঘর্মাক্ত হয়ে পড়ছে শরীর-মন ঠিক তখনই মুসল্লি নবীপ্রেমিকদের খাবার-পানি বিতরণের ছোট ছোট আয়োজনগুলোও হয়ে উঠেছে বড় এক মানবিক দৃশ্য। জুলুসের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগে ফুটে উঠেছে আন্তরিকতা ও সেবার মানসিকতা।






