বুধবার – ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে ‘আলী’: কানে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। পুরস্কার জিতলো বাংলাদেশের নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘আলী’।

উৎসবটির ৭৮তম আসরের স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে স্থান করে নিয়েছিল এটি। স্বল্পদৈর্ঘ্যটি স্পেশাল জুরি ম্যানশন পুরস্কার জিতেছে।

পুরস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ও বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম থেকে। উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ফেসবুক পেইজের স্টোরিতে এসেছে ‘আলী’র পুরস্কার বিজয়ের বিষয়টি। শনিবার (২৪ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামে। সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম একে একে ঘোষণা করা হয়।

এবারের আসরের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও লা সিনেফ বিভাগের প্রধান বিচারক জার্মান পরিচালক মারেন আদে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘আলী’কে স্পেশাল মেনশন দেওয়ার কথা জানান। তখন অতিথি সারিতে বসে থাকা বাংলাদেশের নির্মাতা আদনান আল রাজীব উঠে দাঁড়ালে সবাই করতালি দিয়ে অভিনন্দনে সিক্ত করেন তাকে।

পুরস্কার বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আদনান আল রাজীব বলেন, ‘এ অর্জন বাংলাদেশের। ’

প্রায় ৪ হাজার ৭৮১টি জমাকৃত চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে মাত্র ১১টি স্বল্পদৈর্ঘ্যকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের ‘আলী’। এ অর্জনকে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আল আমিন। শুক্রবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত হয়েছে চলচ্চিত্রটির অফিসিয়াল প্রদর্শনী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা, অভিনেতা ও প্রযোজকসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব বরাবরই এক স্বপ্নের নাম। সেই স্বপ্নের প্রথম স্পর্শ আসে ২০০২ সালে, তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ যখন নির্বাচিত হয় কানের প্যারালাল সেকশন ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’-এ। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২১ সালে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কানের অফিশিয়াল সেকশন ‘আঁ সার্তে রিগা-তে জায়গা করে নেয়। এটিই ছিল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রের কানের মূল কাঠামোয় প্রবেশ।