ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের প্রস্তাবে ১১ নম্বর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও ভৌগোলিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে এসব এলাকা নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের নেতারা বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ভুজপুরকে উপজেলা করার প্রস্তাবের সময় ২০২১ ও ২০২৩ সালে সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়ন বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি নিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।
তাদের দাবি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ২০২৩ সালের সরেজমিন প্রতিবেদনে সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলে এলাকাবাসী আপত্তি জানায়।
ফোরামের নেতারা বলেন, এ দাবিতে তারা গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সালের একটি চিঠিতে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বাদ দিয়ে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ভুজপুর উপজেলা গঠনের বিষয়ে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন ও সদর নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে তিনটি রিট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো হলো ১৪৭৮/২০২৬, ২১৭৮/২০২৬ ও ৪৪৮৯/২০২৬। এসব বিষয় নিষ্পত্তির আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেন তারা।
ফোরামের নেতারা বলেন, সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের সঙ্গে রয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
তারা বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকেও এই সংযুক্তি বাস্তবসম্মত নয়। সুয়াবিল এলাকা থেকে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার হলেও বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র সাড়ে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা থেকে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার, জনগণের মতামত ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় পুনর্বিবেচনা, আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
ফোরামের নেতারা জানান, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনস্বার্থভিত্তিক শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলন। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুয়াবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







