আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে—ডাক্তারেরও আবার অসুখ হয়? এই কথাটি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, তাই না? হ্যাঁ তারাও মানুষ, তারাও অসুস্থ হন। চিকিৎসকরা আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম একটি স্তম্ভ। বছরের ৩৬৫ দিন তো বটেই, যে-কোনো দুর্যোগে তাদের ব্যস্ততা যেন হাজারগুণ বেড়ে যায়। শতভাগ সেবা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদেরও দরকার সুস্থ দেহ, সুস্থ মন। চিকিৎসকের একটুখানি হাসি রোগীর মাঝে অনেকখানি প্রশান্তি এনে দেয়। কিন্তু সেই চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কী কেউ ভাবে?

তাই চিকিৎসকদের সুস্থ রাখার দায়িত্বটাও যেন নিজেরদেরই নিতে হয়। এদিক থেকে এগিয়ে আছে দি একমি ল্যাবরেটরিজের এক ঝাঁক তরুণ চিকিৎসক। মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড ফার্মাকোভিজিলেন্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আফরোজা আক্তার আছেন তাদের নেতৃত্বে। একমি’র মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড ফার্মাকোভিজিলেন্স ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকরা পেশাগত কারণেই নানারকম চাপে জর্জরিত। এই ব্যস্ততার মাঝেই সহকর্মীদের কর্মচঞ্চল ও সুস্থ রাখার জন্য ডা. আফরোজা আক্তার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

প্রথম থেকেই তিনি বেশ স্বাস্থ্য সচেতন । ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত দৌঁড়ানো তাঁর সুস্থ থাকার যাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ডিপার্টমেন্টের তরুণ চিকিৎসকদের নিয়ে তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা ও দৌঁড়ে অংশগ্রহণ শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তাঁর ডিপার্টমেন্টের সহকর্মী হিসেবে আমাকে নিয়ে ২০২৩ সালে হাফ ম্যারাথন (২১.১ কিমি) সম্পন্ন করেন। নিয়মিত জিমে গিয়ে ঘাম ঝড়ানো তার ভেতরে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। এরই ফলস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি ও তার সেই সহকর্মী সফলভাবে ফুল ম্যারাথন (৪২.২ কিমি) সম্পন্ন করেন। নিজেকে কর্মক্ষেত্র,পরিবার বা বন্ধু-মহলে এগিয়ে রাখতে হলে দরকার সুস্থতা। তাঁর ডিপার্টমেন্টের সহকর্মীরা যেন সুস্থ খাবার গ্রহণ করেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, নিজেরদের শরীরের যত্ন নেন এজন্য তিনি সব সময় উৎসাহ প্রদান করেন, খোঁজ-খবর রাখেন।

তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই নিয়মিত কোনো না কোনো রানিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন। এর পাশাপাশি সাইক্লিং শুরু করার জন্যও তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শরীরকে পুনরুদ্ধারের জন্য যে কিছু সময় দেওয়া দরকার—এই ধারণা ডা. আফরোজা আক্তার তাঁর আশেপাশের মানুষের মনে সফলভাবে গেঁথে দিতে পেরেছেন। সুস্থ চিকিৎসক ছাড়া রোগীকে সুস্থ করে তোলা অসম্ভব। সুস্থ জাতি গড়ার জন্য দরকার সুস্থ চিকিৎসক সমাজ। এই অগ্রযাত্রায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ-এর মেডিকেল সার্ভিসেস ও ফার্মাকোভিজিলেন্স এর চিকিৎসকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ।
লেখক: নির্বাহী কর্মকর্তা, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড





