– 

– 

কনকনে শীতেও সবুজ স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

পৌষ মাসের শেষ ভাগে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও বোয়ালখালী উপজেলায় থেমে নেই কৃষকের কর্মযজ্ঞ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।

উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে দেখা গেছে, কোথাও বীজতলা প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও চারা তোলা ও রোপণের কাজ চলছে। আবার কোথাও সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির সাহায্যে জমি প্রস্তুত করছেন চাষিরা। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় বোরো ধান রোপণের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। তিনি বলেন, ‌‘চারা প্রস্তুত হলেও প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল হলে ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।’

bKash

একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন জানান, তিনি এ বছর ৩ কানি জমিতে বোরো আবাদ করবেন। তার জমিতে ব্রি ধান-৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ধান রোপণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ভোরবেলা কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে দৈনিক প্রায় ৮০০ টাকা আয় করেন তারা। শীতের মধ্যেও কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।

বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজসহ ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি অফিস আরও জানায়, ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করা হচ্ছে। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।