– – 

– – 

ডিসেম্বরে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের যোগাযোগচিত্র

লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে বিশাল উড়ালসড়ক, অথচ ওঠানামার পথ বা র‍্যাম্পগুলো চালু না হওয়ায় নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের এত দিন কেবল দীর্ঘশ্বাসই ফেলতে হতো। আবার বন্দরমুখী ভারী ট্রাক-লরির চাপে শহরের মূল সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা তো বন্দরনগরীর নিত্যদিনের চিরচেনা ছবি। তবে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ আর যানজটের ভোগান্তি এবার ফুরোতে চলেছে।

আগামী ডিসেম্বরেই নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে যাওয়া তিনটি মেগা প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তিন প্রকল্প একযোগে চালু হলে কেবল যানজটই কমবে না, সাগর ও নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা সড়কগুলোর হাত ধরে পুরো বন্দরনগরী প্রবেশ করবে গতির এক নতুন যুগে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসবেন। এই সফরেই তিনি ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি র‍্যাম্প, বঙ্গোপসাগর উপকূলের পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট আউটার রিং রোড এবং কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড উদ্বোধন করবেন।

bKash

এই তিন মেগা প্রকল্পের মধ্যে নগরবাসীর সবচেয়ে বেশি আগ্রহ শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পগুলো নিয়ে। নগরীর যানজট নিরসন ও বন্দরের ওপর চাপ কমাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এই উড়ালসড়কটি নির্মাণ করা হয়। মূল সড়কটি চালু হলেও এত দিন র‍্যাম্পের অভাবে মাঝপথের যাত্রীরা এতে ওঠানামা করতে পারতেন না। এবার ডিসেম্বরে একসাথে উড়ালসড়কটির নয়টি র‍্যাম্পই খুলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নয়টি র‍্যাম্পের মধ্যে আটটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি থাকা আগ্রাবাদ অংশের র‍্যাম্পটির কাজও চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া নগরবাসীর সুবিধার্থে বিদ্যমান নয়টি র‍্যাম্পের পাশাপাশি নতুন করে আরও তিনটি র‍্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিমুল বলেন, বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন দিনরাত সমানতালে নির্মাণযজ্ঞ চলছে। দ্রুতই আগ্রাবাদের র‍্যাম্পটির কাজ শেষ হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব র‍্যাম্প একসঙ্গে চালু হলে বন্দর সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি পুরো নগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

শহরের ভেতরের উড়ালসড়কের পাশাপাশি শহরের দুই প্রান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে দুটি বিশাল রিং রোড। এর মধ্যে নগরীর পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ আউটার রিং রোড। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি মূলত বন্দর ও মূল নগরীর ওপর থেকে ভারী যানবাহনের চাপ কমিয়ে দেবে। বন্দর থেকে পণ্যবাহী গাড়িগুলো শহরের ভেতরে না ঢুকেই সাগরপাড়ের এই প্রশস্ত সড়ক ধরে সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে যেতে পারবে।

অন্যদিকে, নগরীর পূর্ব প্রান্তে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের যুগল লক্ষ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড। প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি চালু হলে কেবল যাতায়াতের সময়ই সাশ্রয় হবে না, বরং নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটনেরও নতুন এক সম্ভাবনা।