মঙ্গলবার – ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার – ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে অস্ত্র ছিল না, সেই অস্ত্রেই গ্রেপ্তার!

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও সম্পাদিত ছবির ভিত্তিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ছাত্রদল নেতা শওকত আলীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছে ডিজিটাল অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট।

গত ৭ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি  শওকত আলীকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক করা হয়। অভিযোগ ছিল— সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র হাতে তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেই গ্রেপ্তারের খবরটি বিডিনিউজ২৪, যুগান্তর এবং চট্টগ্রামের সিপ্লাস টিভিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বিডিনিউজ২৪-এর ওইদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “অস্ত্র হাতে শওকতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেটি দেখেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে”— এমন তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে তুলে ধরা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, শওকতকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

তবে দ্য ডিসেন্ট ফ্যাক্ট-চেকিং করে দেখেছে, অস্ত্র হাতে শওকত আলীর যে দুটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয় এবং যেগুলোর ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে— সেগুলো ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে শওকত আলীর ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা পুরনো দুটি ছবিতে ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।

ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর একটি শওকত আলী নিজেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেছিলেন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা ছিল— “স্বাধীন বাংলা হয়েছে স্বাধীন ২০২৪.০৮.০৫”। পরে সেই ছবিতে বন্দুক যুক্ত করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

আরেকটি ছবি তিনি একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। সেটিও সম্পাদনার মাধ্যমে অস্ত্র সংযোজন করে ভাইরাল করা হয়।

শওকত আলী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার ছবিতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। অন্তত ১০টি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে সেগুলো ছড়ানো হয়।”

তিনি দাবি করেন, বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার অপরাধ একটাই— আমি বালুমহল আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।’’

ভুয়া ছবি ছড়ানোর বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১২ নভেম্বর শওকত আলী রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে ভুয়া আইডিগুলোর নাম ও লিংক উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দেন। তার দাবি, গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি অভিযানে প্রাথমিক তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় শওকত আলীর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়নি। তার বিরুদ্ধে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট মামলাও না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত থেকে তিনি মুক্তি পান।

সূত্র : দ্য ডিসেন্ট