চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (AUW) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো হিউম্যানিটিজ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ কনফারেন্সে বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। এবং ৪০ জনেরও বেশি গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
গত ১০ ও ১১ জুলাই নগরীর হোটেল আগ্রাবাদে আয়োজিত এ কনফারেন্সে সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, স্মৃতি, লিঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস, আদিবাসী জ্ঞান, অভিবাসন, সংঘাত ও শরণার্থী, জাতীয়তা, ধর্ম ও সামাজিক পরিবর্তন, মানবিক বিদ্যার শিক্ষণ-পদ্ধতি, গবেষণা পদ্ধতি, লেখালেখি ও যোগাযোগ, ভিজ্যুয়াল আর্ট, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও ইকো-ক্রিটিসিজমসহ সমসাময়িক মানবিক গবেষণার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন AUW-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা রায়ামাঝি। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান বিশ্বে মানবিকবিদ্যা প্রতিটি শাস্ত্র ও মানবজীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যেও মানবিকবিদ্যা মানুষকে তার মানবিক সত্তা সম্পর্কে সচেতন করে এবং সমাজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি মানবিক বিদ্যাকে ‘সমাজের বিবেক, স্মৃতি ও কল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করে আরও বলেন, মানবিক বিদ্যা অতীতকে সংরক্ষণ করে, বর্তমানকে আলোকিত করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে নতুন নতুন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজা দেবাশীষ রায় জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, ভাষা ও মানবাধিকারের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রদায়ভিত্তিক অধিকারকে সম্মান জানানো গণতন্ত্র, সামাজিক সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ULAB) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন অধ্যাপক ড. কায়সার হক। ‘Why Humanities Matter Today’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কেবল মানবিকবিদ্যার শিক্ষার্থীদের জন্য নয় বরং প্রায় সব শাখার শিক্ষার্থীদের জন্যই একটি বাস্তবতা।
এসময় তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাষা ও সাক্ষরতার দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মৌলিক চিন্তাশক্তির বিকাশ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এছাড়া সম্মেলনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউসিটিসি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশ নেন।
সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এ আয়োজনকে ” conversations waiting to happen” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মানবিকবিদ্যার বিভিন্ন শাখার গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ক্লিফটন গ্রুপ ও ডেটসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আয়োজকরা গবেষক, অধিবেশন সভাপতি, অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান এবং তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, AUW-এর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবিকবিদ্যা গবেষণাও একাডেমিক সহযোগিতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।







