বুধবার – ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকিং থেকে শিল্পায়ন: অর্থনীতির এক নিভৃত কারিগরের গল্প

একটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড গড়ে ওঠে এমন কিছু দূরদর্শী মানুষের হাত ধরে, যাঁরা কেবল নিজেদের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথাই নয় বরং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের মাধ্যমে জাতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের হাত ধরেই সচল থাকে উৎপাদনের চাকা, গতিশীল হয় অর্থনীতি এবং নতুন স্বপ্ন দেখতে শেখে হাজারো পরিবার। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও শিল্প খাতে এমনই এক দেদীপ্যমান-সফল নেতৃত্বের নাম শওকত আলী চৌধুরী।

বলা হয়, কোনো শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে শুধু ইট-পাথরের দেয়ালই ওঠে না, গড়ে ওঠে হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন, অসংখ্য পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সম্ভাবনা এবং একটি অঞ্চলের আর্থিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। ঠিক তেমনি, বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা নেতৃত্বের বিকাশে নীরবে আলো ছড়িয়েছেন প্রচারবিমুখ শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত শওকত আলী চৌধুরী। ‍যিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে রেখে যাওয়া অবদানই একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত পরিচয় আর সেই বিশ্বাস থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

এভাবেই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও আর্থিক খাতের বিকাশে অসামান্য অবদান রেখে চলা শওকত আলী চৌধুরী ব্যাংক পরিচালানায়ও দেখিয়েছেন অনন্য দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তাঁকে দেশের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ও করপোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

ট্যাক্স ফাইলের স্বচ্ছতা ও ১১ বছরের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

শওকত আলী চৌধুরীর সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো তাঁর শতভাগ নিয়মানুবর্তিতা, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রশ্নাতীত সততা। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ—তিনি টানা ১১ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা (সেরা করদাতা) হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে আসছেন। বর্তমান সময়ে যখন কর ফাঁকি বা আর্থিক অস্বচ্ছতার নানা খবর সংবাদমাধ্যমে আসে, তখন শওকত আলী চৌধুরীর মতো একজন মানুষের প্রতি বছর রাষ্ট্রের কোষাগারে সর্বোচ্চ কর প্রদান করা কেবল তাঁর সততারই প্রমাণ দেয় না বরং দেশের প্রতি তাঁর গভীর দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি তাঁর পরম দায়বদ্ধতাকে ফুটিয়ে তোলে।

অথচ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, সম্প্রতি একটি চক্রান্তকারী মহল তাঁর এই দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিছু বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মূলত তাঁর ট্যাক্স ফাইলে বিদেশে পরিচালিত বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, যা শতভাগ আইনি প্রক্রিয়া মেনে পরিচালিত।

বহুমুখী শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের রূপকার

কেবল ব্যাংকিং খাতেই নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে শওকত আলী চৌধুরীর অবদান বহুমাত্রিক। ১৯৯৩ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকা এই মানুষটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাংকটিকে করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ঈর্ষণীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁরই নির্দেশনায় ইবিএল আজ ডিজিটাল ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি। ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভাতেও (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা তাঁর এই প্রবৃদ্ধির কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি শিপ রিসাইক্লিং, লজিস্টিকস, রিয়েল এস্টেট, চা শিল্প এবং বীমা খাতের মতো সংবেদনশীল ও শ্রমঘন শিল্পগুলো তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করছেন। তাঁর এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান, যা অসংখ্য পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

মিথ্যা অপপ্রচার: যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাজার ও কর্মসংস্থান

ব্যবসায়ী সমাজ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শওকত আলী চৌধুরীর মতো একজন পরিচ্ছন্ন ও জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর এক বড় ধরনের চপেটাঘাত। যখন বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের প্রসারে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তখন এ ধরনের কুৎসা রটনা বাজারের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা: শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন, যা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আসার পথকে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যাংকিং খাতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ: ইস্টার্ন ব্যাংকের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় ও সুশাসিত ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরের পেছনে যাঁর নেতৃত্ব অনস্বীকার্য, তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকদের মনে এক ধরণের কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি হতে পারে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্যই ক্ষতিকর। উদ্যোক্তাদের মনোবল ভাঙন: সৎভাবে ব্যবসা করে এবং নিয়মিত সর্বোচ্চ কর দিয়েও যদি কোনো উদ্যোক্তাকে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়, তবে তরুণ ও উদীয়মান উদ্যোক্তারা সততার সঙ্গে ব্যবসা করার প্রেরণা হারিয়ে ফেলবেন।

সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে শওকত আলী চৌধুরী একজন সমাজহিতৈষী ও মানবিক হৃদয়ের মানুষ। নীরবে-নিভৃতে তিনি অসংখ্য মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর অবদান সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে প্রতিনিয়ত আলো দেখাচ্ছে।

ব্যবসায়িক অঙ্গন ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কোনো সস্তা অপপ্রচার বা চক্রান্ত শওকত আলী চৌধুরীর এই বিশাল অবদান ও তিন দশকের সততার ইতিহাসকে ম্লান করতে পারবে না। কাদা ছিটানোর এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার দেশের স্বার্থেই। কারণ শওকত আলী চৌধুরীর মতো সৎ উদ্যোক্তারা সুরক্ষিত থাকলেই সুরক্ষিত থাকবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, এগিয়ে যাবে আমাদের ভবিষ্যৎ।

শওকত আলী চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, তিনি ব্যবসাকে কেবল মুনাফার ক্ষেত্র হিসেবে দেখেন না বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে যেমন কঠোর পরিশ্রম, ঝুঁকি গ্রহণ ও দীর্ঘ পরিকল্পনা থাকে, তেমনি তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত থাকে। ফলে এমন ব্যক্তিদের অবদান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং তথ্যনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।