শুক্রবার – ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার – ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, শেষ হলো ইন্ট্রা স্কুল টুর্নামেন্ট

বৃষ্টি তখনও ঝরছে। ভেজা মাঠে একদিকে বলের পেছনে ছুটছে শিক্ষার্থীরা, অন্যদিকে গ্যালারি ও মাঠের চারপাশে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস। আবহাওয়ার বিরূপতা যেন একটুও কমাতে পারেনি খেলার উত্তেজনা। গোল, পয়েন্ট আর শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের মাঠ। এভাবেই বৃষ্টিভেজা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে সপ্তাহব্যাপী ইন্ট্রা স্কুল টুর্নামেন্টের।

পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে উদ্যমী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী ‘ইন্ট্রা স্কুল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ইভেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি হয়।

প্রতিযোগিতায় শ্রেণিভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফুটবল, কাবাডি ও দাবা খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ছাত্রদের ফুটবলের পাশাপাশি ছাত্রীদের ফুটবল ম্যাচের আয়োজনও ছিল এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ।

সমাপনী দিনে বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় একের পর এক ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের বিপুল উপস্থিতিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীদের কাবাডি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রীদের কাবাডির ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রথম ম্যাচে সপ্তম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা বিজয়ী হয়।

এরপর বৃষ্টির মধ্যেই শুরু হয় ফুটবল ফাইনাল। এতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি এবং অষ্টম (বি) ও দশম (এ) শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি হয়। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষে যথাক্রমে সপ্তম শ্রেণি এবং দশম (এ) শ্রেণি বিজয়ী হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও।

পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজন ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক আনিস চৌধুরী ও আফিয়া। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল আনিকা তেহজিব, প্রধান শিক্ষক জয় সেন, চিফ কো-অর্ডিনেটর তাসলিমা আহমেদ ও চুমকী হুদা।

এছাড়া স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা পুরস্কার বিতরণে অংশ নেন।

পুরস্কার বিতরণীর পর বিজয়ীদের নিয়ে ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ ক্রীড়া আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক উদ্যম, দলগত চেতনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা।