– – 

– – 

বন্দর থানা প্রাঙ্গণে পিংক বাস, হলো ক্যান্সার স্ক্রিনিং

শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেও অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। সংসারের ব্যস্ততা, নিজের অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা লজ্জা ও সংকোচসহ বিভিন্ন কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও পিছিয়ে যায়। ফলে রোগটি যখন ধরা পড়ে তখন চিকিৎসার সুযোগও অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে আসে।

ক্যান্সারের মতো রোগের ক্ষেত্রে এই অবহেলা আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের গুরুত্ব সামনে রেখে তাই মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং স্নাতকোত্তর সার্জিক্যাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিজিএস একাডেমিয়া।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর থানা প্রাঙ্গণে ‘পিংক বাসে’ এই ভ্রাম্যমাণ স্ক্রিনিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

bKash

কার্যক্রমটির বিশেষ দিক ছিল, চিকিৎসাসেবা নিতে রোগীদের দূরে কোথাও যেতে হয়নি। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ। এতে অংশগ্রহণকারী রোগীরা ছাড়কৃত মূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিনামূল্যে টিউমার বোর্ডের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অপারেশনের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাজমা মাহবুবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন—ডা. লিপিকা ত্রিপুরা, ডা. সামিয়া বিনতে কবির, ডা. তাসনিম তাবাসসুম এবং ডা. তাজরিয়ান সুলতানা।

কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সিএসসিআরের চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সারওয়ার আহমেদ, সিএসসিআরের ভারপ্রাপ্ত এজিএম জনাব আজিজুর রহমান, পুলিশ কর্মকর্তা জনাব মনিরুল ইসলাম খায়েরশেদ ও জনাব রেজাউল ইসলাম। এছাড়া সিএসসিআরের কর্মকর্তা মানিক বড়ুয়া ও রতন আলীও উপস্থিত ছিলেন।

ক্যান্সার শনাক্তকরণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বন্দরের মতো কর্মব্যস্ত এলাকায় কর্মীদের কাছে পৌঁছে গিয়ে স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ায় উদ্যোগটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।