– – 

– – 

বিশ্ব খাদ্য দিবসে এইউডব্লিউতে ১ হাজার তাল ও খেজুরের চারা রোপণ

শীতের শুরুতে নরম মাটির বুকে নতুন প্রাণের বীজ বুনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন করলেন চট্টগ্রামের একদল তরুণ শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নগরীর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ)-এর মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘গ্রিন ব্যাঙ্গেল প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ দিন ক্যাম্পাসজুড়ে রোপণ করা হয় এক হাজার দেশীয় তাল ও খেজুরের বীজ এবং চারা।

জানা যায়, ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ করে তোলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।

bKash

এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী। কর্মসূচিতে ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক এবং তালগাছ গবেষক ড. মোসে সেলভাকুমার পলরাজ। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ হাতে চারা রোপণ ও মাটি পরিচর্যার কাজ করেন।

আয়োজকরা জানান, কেবল চারা লাগিয়েই এই উদ্যোগ শেষ হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে সবুজের এই ধারা বজায় রাখতে একটি বিশেষ বীজতলায় আরও ২ হাজার তালের বীজ যত্ন করে রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই বীজগুলো থেকে নতুন চারা গজাবে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় রোপণ করা হবে।

বাঙালির শীত মানেই খেজুরের রস আর তালের পিঠার মিষ্টি স্বাদ। কিন্তু কেবল ঐতিহ্যের দিক থেকেই নয়, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও এই দুটি গাছ ভীষণ প্রয়োজনীয়। তাল ও খেজুর গাছ একদিকে যেমন ঝড়-বৃষ্টি ও মাটির ক্ষয় রোধ করে বন্যপ্রাণীর আশ্রয় দেয়, অন্যদিকে এর পাতা দিয়ে তৈরি হস্তশিল্প বহু গ্রামীণ পরিবারের রুটিরুজির ব্যবস্থা করে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে মাটি ছিল বেশ নরম। শিক্ষার্থীরা কোদাল দিয়ে গর্ত করে চারা বসানো এবং চারপাশের মাটি সমান করার কাজ নিজ হাতে করেন। বইয়ের পাতার বাইরে এসে মাটির স্পর্শ পাওয়ার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে।

পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন গ্রিন ব্যাঙ্গেল আন্দোলনের গবেষণা সহকারী তাসফিয়া আসাদ তোয়া ও উনুচিং মারমা। কর্মসূচি শেষে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘রোপণ যোদ্ধা’ অ্যাখ্যায়িত করে ধন্যবাদ জানান ড. মোসে সেলভাকুমার পলরাজ।

এসময় তিনি বলেন, আজ আমরা মাটির বুকে যে বীজ রোপণ করছি, তা আসলে একটি সুন্দর ও নিরাপদ আগামীর জন্য আমাদের সবার অঙ্গীকার।