বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার – ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুরু হচ্ছে ব্যাংক খাতে শুদ্ধি অভিযান

দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে চরম সংকটে থাকা ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) ‘নন-ভায়েবল’ বা অকার্যকর ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়া চলতি সপ্তাহ থেকেই শুরু হচ্ছে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গভর্নর বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৯টি এনবিএফআই-কে অকার্যকর ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়া এই সপ্তাহেই শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য দ্রুতই অডিটর নিয়োগ করা হবে। তাদের লক্ষ্য হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর দেনা (নেগেটিভ নেটওয়ার্ক) আসলে কত—১০০ কোটি নাকি ১০ হাজার কোটি টাকা—তা সুনির্দিষ্টভাবে বের করা।’

আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন, পাবেন না শেয়ারহোল্ডাররা

সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের জন্য আশার কথা শুনিয়েছেন গভর্নর। তিনি জানান, অকার্যকর ঘোষিত এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ আমানতকারীদের পাওনা রমজানের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সাধারণ আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পেলেও শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের বিশেষ তহবিল ব্যবহার করে সাধারণ আমানতকারীদের আসল টাকা পরিশোধের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য ‘পাথওয়ে টু সাকসেস’

দেশের অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়ে গভর্নর জানান, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ’ এগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ইতোমধ্যে সফলভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা (Solvency) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘পাথওয়ে টু সাকসেস’ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আমানতকারীদের দায় মেটাতে সক্ষম হয়।’

তবে এই ব্যাংকগুলোর সংকট কাটাতে আরও বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন। গভর্নর বলেন, ‘বাকি দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট উত্তরণে আরও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বাজেটে এই তহবিলের সংস্থান নেই, তাই এটি পরবর্তী বাজেট ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আলাদা কোনো ‘রেজল্যুশন ফান্ড’ নেই এবং ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স স্কিমের ১৯ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে

ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘কোনো ঋণ খেলাপি যদি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (Stay Order) নিয়ে আসেন, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঋণ খেলাপিদের যোগ্যতার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকার ও আদালতের এখতিয়ার। সংবিধান অনুযায়ী আদালতের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।’