শনিবার – ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার – ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ –  ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ জনের ‘চোখের আলো’ না ফেরা পর্যন্ত হাত ছাড়েনি সেনাবাহিনী

ছানি অপারেশনের পর প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার রোগীদের চিকিৎসা তদারকিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনে ফলোআপ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৮ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দীঘিনালা জোন সদর দপ্তরে এ ফলোআপ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিক এতে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে এবং রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটি ও লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রোগ্রেসিভ সাউথের যৌথ সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল দীঘিনালা জোন আয়োজিত চক্ষু ক্যাম্পে ছানি অপারেশনের জন্য ১৬০ জন রোগী বাছাই করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ৬৭ জনের সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে গত ২৫ জুলাই লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা ২৮ জন রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পাহাড়ি ও ১৫ জন বাঙালি।

ফলোআপ ক্যাম্পে চিকিৎসকেরা রোগীদের অপারেশন-পরবর্তী চোখের অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চোখের পরিচর্যা, নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার, দৈনন্দিন চলাফেরায় সতর্কতা এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে রোগী ও স্বজনদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

দীঘিনালা জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে রোগীদের অপারেশন-পরবর্তী শারীরিক অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর কোনো রোগী যাতে চিকিৎসা তদারকির বাইরে না থাকেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ফলোআপের প্রয়োজন হলেও দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় জোন সদর দপ্তরে ফলোআপের ব্যবস্থা করায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জানান, অপারেশনের পর দূরের হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় চিকিৎসা নেওয়া তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য। দীঘিনালা জোনে ফলোআপের ব্যবস্থা হওয়ায় সময় ও যাতায়াতের খরচ কমেছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।

এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটি, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং প্রোগ্রেসিভ সাউথ এবং চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।

তাঁদের মতে, শুধু অস্ত্রোপচার করানোই যথেষ্ট নয়; অপারেশনের পর রোগীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া ও চিকিৎসা তদারকির ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা ক্যাম্প, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু অপারেশন-পরবর্তী রোগীদের জন্য এ ফলোআপ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।