অক্টোবরের প্রথম সকাল। সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম সিটিতে যুক্ত হয়েছে একটি ভিন্ন আবহ, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। গোলাপি আভায় ছড়িয়ে পড়ছে সচেতনতার বার্তা। স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ‘মাস পিংক অক্টোবর-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর এবং পিজিএস একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এক অভিনব উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে একঝাঁক প্রখ্যাত চিকিৎসক, সাংবাদিক, নার্স ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ আয়োজন ঘিরে সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বের হয় এক বিশাল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বক্তব্যে তিনি নারীর স্বাস্থ্যের প্রতি সম্মিলিত দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, চট্টগ্রামকে একটি “Breast Cancer Aware City” হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একজোট হতে হবে। নগরবাসীর প্রতি এক আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অক্টোবর জুড়ে প্রতিটি বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটি ছোট গোলাপি আলো জ্বালিয়ে রাখুন—যে আলো হবে মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের দৃপ্ত প্রতীক।


সরেজমিন দেখা গেছে, শোভাযাত্রাটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের এক অপূর্ব মিলনমেলা। এতে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তাসলিম উদ্দীন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিসুল হোসেন।
এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান, সিএসসিআর-এর চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরসেদুল করিম চৌধুরীসহ প্রখ্যাত চিকিৎসক, সাংবাদিক, নার্স ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা পদযাত্রায় একাত্মতা প্রকাশ করেন।
দৃষ্টি কাড়ল দোতলা ‘পিংক বাস’
শোভাযাত্রার একেবারে শেষ প্রান্তে সবার চোখ আটকে যায় এক চমৎকার দৃশ্যে—বিআরটিএ-র একটি দ্বিতল ‘পিংক বাস’। দৃশ্যত বাস মনে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে প্রতি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ পিংক বাসে চেপে শহর ঘুরে বেড়াবেন অভিজ্ঞ সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সাধারণ নারীদের জন্য এতে থাকবে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য পরামর্শের ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিঃসন্দেহে স্তন ক্যান্সারের মতো নীরব ঘাতককে রুখতে চট্টগ্রামের এ সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী প্রয়াস পুরো দেশের জন্যই এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।





