“যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে
সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে;
যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়
পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।”
বাংলা দ্বিতীয়পত্রের ভাব-সম্প্রসারণে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই-উপমা’ কাব্যের এ অমেয় পঙক্তিমালার মর্ম কৈশোরেই আমাদের অংকুরিত বিবেকের পত্রপল্লবে যে বোধটা খোদাই করতে চেয়েছিল, আজ যৌবনে এসে তার বাস্তবিক চিত্রটাই দৃশ্যমান যেন আমাদের অক্ষিপটের সম্মুখে। একটি জাতি কখন মূলত তার জীবন ও স্পন্দন হারায়? যখন হারিয়ে যায় তার স্বকীয়তা, তার নিজস্ব গতিশীলতা আর দীর্ঘদিনের লালিত সুকুমার সংস্কৃতি। ফলশ্রুতিতে সহজাত সংস্কৃতি আর আদর্শচ্যুত প্রজন্মের রুধিতে সংক্রমণ ঘটে অবৈধ সংস্কার আর বিকৃত চেতনার। প্রতিটি বিবেক তখন গড়ে তোলে কুৎসিত প্রবৃত্তির জলসাঘর, স্বার্থান্বেষী কালোধোঁয়ায় আচ্ছাদিত থাকে সমাজের নির্মল আকাশ, আর অস্বাভাবিক মৃত্যু ললাটলিখন নিয়ে জন্মায় প্রতিটি অবোধ শিশু। আজ চারিদিকে রব উঠেছে— অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা নয়, আগে আমাদের নিরাপত্তা চাই; জীবনের নিরাপত্তা, বিত্তের নিরাপত্তা আর নারীর সম্ভ্রমের নিরাপত্তা!
এই দৃশ্যগুলো ঠাকুরমার ঝুলি থেকে উদ্ধৃত কোনো রূপকথা কিংবা অলীক চিন্তন নয়; এটি আমাদেরই সমাজ, আমাদেরই আবহমান বাংলার আজকের এক বীভৎস বাস্তব রূপ। এটি আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোর ক্রোনিক অসাড়তারই এক চরম বহিঃপ্রকাশ। ঠিক যেভাবে দেশে হঠাৎ করেই আশংকাজনকহারে বেড়ে গিয়েছে অনৈতিক সম্পর্কজনিত হত্যা আর পাশবিক ধর্ষণ! এই লালসার হাত থেকে বাদ পড়ছে না ছয়-সাত বছরের বাচ্চা মেয়ে, এমনকি ছয় মাসের কোলের নিষ্পাপ শিশুটিও। সভ্যতার সমস্ত অর্জনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কামনার এই লেলিহান শিখা গ্রাস করে চলেছে গোটা সমাজকে। ২০১৯ সালে এই লেখনীটি যখন প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, তখন পরিস্থিতি যতটা উদ্বেগজনক ছিল, বিগত কয়েক বছরের গতিপ্রকৃতি আমাদের আরও ভয়ংকর ভবিষ্যতের বার্তা দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনা ও ট্র্যাজিক ক্রনোলজি
সিলেট এমসি কলেজের গণধর্ষণ (২০২০): করোনাকালীন স্থবিরতার মাঝেই সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের বর্বর ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছিল। এটি আমাদের ছাত্ররাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় প্রমাণ করে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতন (২০২০): নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে বিবস্ত্র করে চরম বর্বর কায়দায় নির্যাতন এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরই দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র ও গণআন্দোলনের মুখে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ করতে বাধ্য হয়।
রাজধানীর কলাবাগানে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা (২০২১): রাজধানীর কলাবাগানে ও লেক সার্কাস এলাকায় ও-লেভেলের শিক্ষার্থী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের ফুসলিয়ে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনাগুলো আমাদের উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি ও গ্যাং কালচারের অন্ধকার দিক উন্মোচন করে।
চলন্ত বাসে গণধর্ষণ (২০২২-২০২৪): ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার চলন্ত বাসে ডাকাত দল ও চালকের সহযোগীদের দ্বারা নারীদের গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে যে, কর্মজীবী নারীদের জন্য আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনও কতটা অনিরাপদ।
পার্বত্য অঞ্চলে নৃগোষ্ঠীর নারীদের ওপর সহিংসতা (২০২৪-২০২৫): সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক ও নৃগোষ্ঠীর নারীদের ঘরে ঢুকে বেঁধে রেখে গণধর্ষণ ও চুরির ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলার চরম শিথিলতা এবং অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভয়াবহ রূপ প্রকাশ করে।
সর্বশেষ ঢাকার পল্লবীতে রামিসা হত্যাকান্ডসহ ২০২৬ এর আরও কিছু আলোচিত ঘটনা
২০২৬ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঢাকার পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে ফেলা, নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে অপহরণ করে হত্যা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলা কেটে জঙ্গল ফেলে রাখা, পাবনায় দাদিকে হত্যার পর কিশোরী নাতনিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় সেহরির সময় গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা।
পরিসংখ্যানের আয়নায় সামাজিক অবক্ষয় ও জরিপ
মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) এবং ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ এর সাম্প্রতিক বার্ষিক পরিসংখ্যান রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করলে হাড়হিম করা তথ্য পাওয়া যায়। বিগত ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর গড়ে ১,১০০ থেকে ১,৫০০ এর অধিক নারী ও শিশু সরাসরি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল করোনাকালীন ২০২০ সালেই ১,৬২৭ জন এবং ২০২১ সালে ১,৩২১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জরিপ অনুযায়ী, মোট ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই হচ্ছে অবোধ শিশু ও কিশোরী, যাদের বয়স ৬ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে!
সবচেয়ে ভয়ংকর উপাত্তটি হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা। পুলিশ সদর দপ্তর ও সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড সেলের বিভিন্ন জরিপ এবং জাতীয় দৈনিকগুলোর বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ঝুলে থাকা হাজার হাজার ধর্ষণ মামলার মধ্যে আসামিদের চূড়ান্ত সাজার হার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে। অর্থাৎ, ৯৭ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর, প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা স্থানীয় শক্তির আশ্রয় কিংবা ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এই নড়বড়ে হেলিত বিচার ব্যবস্থার ফলেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা ধর্ষণের পাগলা ঘোড়াকে আরও বেশি লাগামহীন করছে।
অস্থিরতার উৎস: কি হতে পারে এর মূল কারণ?
ধর্ষণের এই সামাজিক মহামারির জন্য বরাবরই আমাদের দেশের রক্ষণশীল সমাজ একপাক্ষিক দোষ চাপায় নারীর পোশাকের ওপর, আর অতিশয় উগ্র নারীবাদীরা সমস্ত দায় চাপায় কেবল পুরুষতন্ত্রের কাঠামোর ওপর। অথচ একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধর্ষণ কেবল একটি নির্দিষ্ট জৈব উপাত্ত বা পোশাকের অবাধ্যতার ফল নয়; বরং এটি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মনন ক্রমাগত লোপ পাওয়ার এক সামগ্রিক সমীকরণ। এককালের আবহমান বাঙালির শৈশব-কৈশোরের চিরাচরিত সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমসমূহ— দলবেঁধে মাছ ধরা, গাঁয়ের উঠোনে পাটখড়ি দিয়ে ঘর বানিয়ে বনভোজন, বউচি, কানামাছি, কাবাডি, ঘুড়ি উড়ানো, যাত্রাপালা, নৌকাবাইচ আর কবিগানের আসর আজ বর্তমান প্রজন্ম থেকে আশংকাজনকভাবে বিলুপ্ত।
এর বিপরীতে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোন ও ডার্ক ওয়েবের সহজলভ্যতা, বাবা-মায়ের অতি-আহ্লাদী মানসিকতা (যা সন্তানকে সামাজিক ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে), অসৎ সঙ্গ, টিকটক ও লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মে কিশোর গ্যাং কালচার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টে অবাধ কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য ও কথোপকথন। বিভিন্ন ক্যাবল অপারেটর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজগুলোতে অযাচিত অশ্লীল ও যৌন উত্তেজক দ্রব্যের বিজ্ঞাপন তরুণ মনস্তত্ত্বকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে তুলছে। এই নানাবিধ সমস্যার সমষ্টিগত কারণেই আজ ধর্ষণ আর অবৈধ সম্পর্কজনিত হত্যা লাগামহীন রেকর্ড গড়েছে।
ভবিষ্যতের হুমকি ও উত্তরণের উপায়
যদি আমরা এখনই এই ব্যাধির মূল উপড়ে ফেলে ঘোড়ার লাগাম টেনে না ধরি, তবে আমাদের আগামী দিন তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে (Tomorrow is at critical threat)। আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনই কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
এক. দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ: ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ করা হলেও যদি তা কার্যকরে দীর্ঘসূত্রিতা থাকে, তবে অপরাধ কমবে না। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দৃশ্যমান করতে হবে।
দুই. প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট বয়সের আগে শিশু-কিশোরদের হাতে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য স্মার্টফোন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ডার্ক ওয়েব, পর্নো সাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকারক অ্যালগরিদম যা তরুণদের বিপথগামী করছে, তা কঠোর সাইবার নজরদারিতে আনতে হবে।
তিন. ওটিটি ও কন্টেন্টের সেন্সরশিপ: দেশীয় ও বিদেশী যেসব ওয়েব সিরিজ বা রিয়্যালিটি শোতে নিখুঁত অপরাধের কৌশল শেখানো হয় কিংবা বিকৃত যৌনতা প্রদর্শন করা হয়, সামাজিক সুরক্ষার স্বার্থে সেগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
চার. সুস্থ সামাজিকীকরণ ও বিনোদনের পুনরুজ্জীবন: ইন্টারনেট আসক্ত ঘরকুনো প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে যাতে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ সুস্থ ধারায় ঘটে।
পাঁচ. চটকদার যৌন উদ্দীপক পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ: ফেসবুক, ইউটিউব এবং লোকাল ক্যাবল অপারেটরে অবাধ ও বেপরোয়াভাবে যৌন উত্তেজক ড্রাগস বা চটকদার পণ্যের বিজ্ঞাপন ও বিপণন সম্পূর্ণ বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
ছয়. পারিবারিক সচেতনতা ও বিবাহ ব্যবস্থার সহজীকরণ: তরুণ প্রজন্মের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুস্থ জীবনের স্বার্থে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং সমাজে বিয়ের প্রথাকে সহজসাধ্য করা উচিত। প্রয়োজনে বেকার যুবকদের জন্য রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থান বা ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাত. সামাজিক ও ধর্মীয় ক্যাম্পেইন: প্রতিটি ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম সমাজ এবং সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, সেমিনার ও ওয়াজ-মাহফিলে নিয়মিতভাবে নারীর প্রতি সম্মান, নৈতিক শালীনতা, এবং ধর্ষণের ভয়াবহ সামাজিক ও পারলৌকিক শাস্তি সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করতে হবে।
আট. তৃণমূল পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা ও এনজিও কার্যক্রম: বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক পরিবারগুলোতে নিয়মিত পারিবারিক কাউন্সিলিং এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
আসুন, আমাদের নিজেদের পরিবার, আমাদের আবহমান সংস্কৃতির কৃষ্টি, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং প্রিয় জন্মভূমিকে এভাবে চোখের সামনে ধ্বংসের মুখে পতিত হতে না দিই। অনাচার আর ব্যভিচারের এই উন্মাদ লাগামহীন পাগলা ঘোড়াটিকে এখনই বন্দী করি কঠোর আস্তাবলে। প্রতিটি বিবেক যদি আজ নিজের নফস এবং মনের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে আগে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তবে সমাজ জীর্ণ লোকাচার বা অপরাধের অভয়ারণ্য থাকবে না; বড়ং তা বিস্তূর্ণ সৌহার্দ্যবোধ আর নয়নাভিরাম সম্প্রীতিতে ভরে উঠবে। আমাদের আগামী দিনকে সুরক্ষিত করতে হলে আজই এই ব্যাধির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে, অন্যথায় ‘টুমরো’ বা আমাদের ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে। লেখক: গবেষক, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী







