শিক্ষার্থীদের নিজের আবেগকে বোঝা, মানসিক চাপ সামলানো এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা; মানসিক সুস্থতার এসব গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে রেখে কর্মশালার আয়োজন করেছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এউডব্লিউ) আদিবাসী জনগোষ্ঠী কেন্দ্র (আইপিসি)।
‘থ্রাইভিং মাইন্ড, এমপাওয়ারড পাথ’ শীর্ষক শিরোনামে আয়োজিত এ কর্মশালায় গুরুত্ব পেয়েছে আত্মযত্ন, মানসিক দৃঢ়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আরও সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা।

কর্মশালার শুরুতে বক্তব্য দেন এউডব্লিউর মেন্টাল ওয়েলনেস সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী ও সমন্বয়ক নাবিলা। এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মোসায়ে পি. সেলভাকুমার।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন এউডব্লিউর সাবেক শিক্ষার্থী এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ প্রেয়াঙ্কা এস. চৌধুরী।
কর্মশালার অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত অধিবেশনে তিনি মানসিক দৃঢ়তা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এছাড়া কর্মশালার পরিকল্পিত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক সুস্থতা, আত্মযত্ন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা রায়মাঝি। কর্মশালা শেষে তিনি অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন।
আয়োজকরা জানান, আইপিসির সমন্বয়ক মিপ্রু মারমার নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মশালার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরও সুস্থ, সহমর্মিতাপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কেন্দ্রটি।
আইপিসি জানান, মানসিক সুস্থতা যে কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয় বরং একটি সহায়ক ও সংবেদনশীল সম্প্রদায় গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত—কর্মশালাটি সেই উপলব্ধিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
এউডব্লিউ শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মিলিত শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা ও সামগ্রিক সুস্থতা বিকাশের পথে এ আয়োজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আয়োজক কেন্দ্রটি।





