– – 

– – 

জলবায়ু নিয়ে বিশ্বমঞ্চে AUW-এর শিক্ষার্থীরা, অংশ নেন ৭ দেশের তরুণেরা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। কোথাও হিমবাহ গলে যাচ্ছে, কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ঝরনার পানির উৎস। আবার কোথাও জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এসব সংকট মোকাবিলায় কী করা দরকার, তা নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি ঢাকায় একত্র হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তরুণেরা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের মতামত ও দাবি তুলে ধরতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আঞ্চলিক যুব জলবায়ু সম্মেলনে চট্টগ্রাম থেকে অংশ নিয়েছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (AUW) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আফগানিস্তান, ভারত, জাপান, মিয়ানমার, নেপাল, তিমুর-লেস্তে ও বাংলাদেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। অংশ নেন দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও।

৩ থেকে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মোট ২৮টি দেশের ৫ শত’র বেশি তরুণ নেতা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে শতাধিক ছিলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি। যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের দাবি ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, কর্মশালা, প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

bKash

সম্মেলনের নাম রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ (RCOY) এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল অধিবেশনগুলো ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিন ৬ অক্টোবর প্রতিনিধিরা গাজীপুরের CCDB Climate Centre পরিদর্শন করেন।

AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মেলনে অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণে সহায়তা করে গ্রিন বেঙ্গল প্রজেক্ট এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ (3CEH)।

জলবায়ু মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তাব

RCOY এশিয়া-প্যাসিফিকের অন্যতম লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এ অঞ্চলের তরুণদের মতামত একত্র করা। সম্মেলনে আলোচনার ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক যুব বিবৃতি তৈরি করা হচ্ছে। যেটি পরবর্তীতে বৈশ্বিক যুব-বিবৃতি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে তরুণদের অবস্থান তুলে ধরতে এ বিবৃতি ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থের জোগান, জ্বালানি, কর্মসংস্থান এবং নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। তরুণেরা কীভাবে জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন, তা নিয়েও কথা বলেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

এ আয়োজন যৌথভাবে করে ১২টি যুব সংগঠন। বাংলাদেশে আয়োজক সংগঠন ছিল SEECTO Bangladesh। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (C3ER) সম্মেলনের অধিবেশন আয়োজন করে। AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে SEECTO-এর সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। সম্মেলনে একাডেমিক অংশীদার হিসেবেও যুক্ত ছিল AUW ।

জলবায়ু বিষয়ে কথা বললেন AUW-এর শিক্ষক

৩ অক্টোবর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড সম্মেলনে আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে পরিবেশবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম তরুণদের আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ জলবায়ু বিষয়ে আসিয়ান ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের ভূমিকা রাখার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন AUW-এর শিক্ষক ড. পলরাজ মোসে সেলভাকুমার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের কাজ এবং এ বিভাগ থেকে স্নাতক হওয়া ২৫০-এর বেশি নারী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করছেন, তা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের জন্য সরাসরি কার্বন ক্রেডিটের ব্যবস্থা করা দরকার। পরিবেশ রক্ষায় তাঁদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নও জরুরি।

তরুণদের উদ্দেশে ড. সেলভাকুমার বলেন, জলবায়ু নিয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় বাস্তবতা ও গবেষণার তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু মোকাবিলার কাজে অর্থায়ন যেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের রাম দাস জলবায়ু মোকাবিলায় অর্থের জোগান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও ভালো কাজের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের C3ER-এর ইমেরিটাস অধ্যাপক ও উপদেষ্টা ড. আইনুন নিশাত জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনা ও দর-কষাকষির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, এসব আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তরুণদের নিজেদের দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মতামত তুলে ধরার পরামর্শও দেন তিনি।

খসড়া বিবৃতি তৈরিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা

সম্মেলনের প্রথম দিনের অন্যতম আয়োজন ছিল আঞ্চলিক যুব বিবৃতির খসড়া নিয়ে দলীয় আলোচনা। AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞানের কয়েকজন শিক্ষার্থী এ আলোচনায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যরা বিভিন্ন দলে অংশ নিয়ে বিবৃতিতে কী কী বিষয় রাখা উচিত, সে বিষয়ে মতামত দেন।

ভারতের শিক্ষার্থী নিশা আগরওয়াল বলেন, বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের জলবায়ু-সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তিনি।

নিশা আরও বলেন, দলীয় আলোচনায় বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং তাঁদের জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জেনেছি। জলবায়ু নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও এনজিও সম্পর্কেও জানতে পেরেছি। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের মতামত কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।”

AUW-এর স্টলে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
৩ অক্টোবর শুরুর পর ৪ অক্টোবর সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী। সম্মেলনস্থলে ৫০টির বেশি প্রদর্শনী ও উদ্ভাবনী স্টল ছিল।

AUW-এর স্টলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কাজ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল গ্রিন বেঙ্গল প্রজেক্টের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির উদ্যোগ, 3CEH-এর শিক্ষার্থীদের প্রকল্প, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের SDGs ক্লাবের কেঁচো সার তৈরির প্রকল্প।

এদিন আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের একটি সম্মাননা স্মারকও দেওয়া হয়। পরে কনসার্ট ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হয়।

অর্থের ব্যবহার ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা

সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরেন AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। ফসিল ফুয়েল ট্রিটি নিয়ে একটি কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের একটি দল জলবায়ু তহবিলের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। তাদের মতে, নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং তহবিল বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব একটি বড় সমস্যা।
এ সমস্যা সমাধানে তহবিল বিতরণের ধাপ কমানো, জলবায়ু প্রকল্পে তরুণদের যুক্ত করা এবং তাঁদের কাজের পথে যেসব বাধা আসে, সেগুলো নথিভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় দলটি।


এ ছাড়া স্কুল পর্যায় থেকে জলবায়ুবিষয়ক শিক্ষা চালু, গণমাধ্যমে প্রকল্পের কাজ তুলে ধরা এবং পরিবেশবান্ধব নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়। আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র ICIMOD-এর আরেকটি কর্মশালায় হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল নিয়ে আলোচনা হয়। হিমবাহ গলে যাওয়া ও ঝরনার পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়ছে, তা তুলে ধরা হয়।

এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ ও জীবিকা উন্নয়নে ICIMOD-এর কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জলবায়ু তহবিলের হিসাব করার অনুশীলনও করেন। এ কর্মশালায় AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী পুরস্কার হিসেবে একটি কুপন পান।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারা বাদ পড়ছেন, সেই প্রশ্ন

৫ অক্টোবর সম্মেলনের তৃতীয় দিন বিভিন্ন বিষয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু মোকাবিলার কাজে বিনিয়োগ, জ্বালানি খাতে পরিবর্তন, পানি ও হিমবাহ এবং এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। এদিন আঞ্চলিক যুব বিবৃতির প্রচ্ছদও প্রকাশ করা হয়।

মিয়ানমারের শিক্ষার্থী হকাউন হতোই অং বলেন, সম্মেলনটি তাঁকে নিজের এলাকার মানুষের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে আমরা নিজেদের কথা বলতে পেরেছি এবং যে স্থানীয় জনগোষ্ঠী থেকে এসেছি, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। স্থানীয় মানুষ বাস্তবে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো তুলে ধরার সুযোগও পেয়েছি। আশা করি, আসন্ন COP31-এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।”

প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ERD) জাতিসংঘ অনুবিভাগের প্রধান এ কে এম সোহেল। তিনি বলেন, যদি ডলারে আপনার অংশীদারত্ব থাকে, তাহলে আপনার কণ্ঠস্বরও থাকতে হবে।

এ সময় ড. আইনুন নিশাত তরুণদের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিজেদের দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ বলেন, জলবায়ু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোন কোন মানুষের কথা এখনো শোনা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তরুণদের তুলতে হবে।

গাজীপুরে জলবায়ু মোকাবিলার কাজ দেখলেন শিক্ষার্থীরা

৬ অক্টোবর গাজীপুরের CCDB Climate Centre পরিদর্শন করেন সম্মেলনের আগত প্রতিনিধিরা। সেখানে মাটি ছাড়াই চাষাবাদ, হাইড্রোপনিক পদ্ধতি, জৈব সার তৈরি, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং ছোট পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পদ্ধতি দেখেন তাঁরা। এসব কাজ বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ ও জলবায়ু বিবেচনায় কীভাবে করা হচ্ছে, তা তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। নেপালের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকার মানুষের আলাদা সমস্যা বিবেচনা করে সমাধান তৈরির বিষয়টি তাঁর ভালো লেগেছে। তিনি এ পদ্ধতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “কথা কম, কাজ বেশি।

এদিন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আদলে দর-কষাকষির একটি অনুশীলনও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ, বনসমৃদ্ধ দেশ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নেন। প্রতিটি দল নিজেদের দাবি ও অঙ্গীকার ঠিক করে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। AUW-এর শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগের অনন্য সুযোগ।

আফগানিস্তানের প্রতিনিধি ফায়েজাহ হাসান জাদা বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা কীভাবে হয়, তা বুঝতে সম্মেলনটি তাঁকে সাহায্য করেছে। গাজীপুরের পরিদর্শনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমানো ও এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বাস্তব উদ্যোগ দেখার সুযোগও হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, COY21 ও COP31-এ হাতে-কলমে কাজের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পানির অপচয় কমানো, খাবার নষ্ট না করা এবং বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মতো দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে জলবায়ু বিষয়ে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির দাবি

তিমুর-লেস্তের শিক্ষার্থী ডেনাজিয়া দা সিলভা পিরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। COP সম্মেলনের আগে তরুণদের মতামত তুলে ধরার এ সুযোগ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের অমিতা অধিকারী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নানা দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা বোঝার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়া মেহেনু মারমা বলেন, এত তরুণকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে দেখে তিনি আশাবাদী হয়েছেন। তবে আদিবাসীদের আরও বেশি স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

মেহেনু আরও বলেন, ব্র্যাকে অনুষ্ঠিত RCOY-তে অংশ নেওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। বাস্তব পরিবর্তনের জন্য এত উদ্যমী তরুণকে একসঙ্গে দেখে আশা ও গর্ব অনুভব করেছি। তবে আমার মন কিছুটা ভারাক্রান্তও হয়েছে। কারণ, আমাদের সমাজে আদিবাসী মানুষের আরও বেশি স্বীকৃতি ও সম্মান প্রয়োজন।

COY21 ও COP31-এ যাবে তরুণদের প্রস্তাব

আয়োজন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্মেলনে তৈরি আঞ্চলিক যুব বিবৃতির চূড়ান্ত সংস্করণ আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য COY21-এ পাঠানো হবে। এরপর ৯ থেকে ২০ নভেম্বর একই শহরে অনুষ্ঠিত হবে COP31। চূড়ান্ত বিবৃতিতে জলবায়ু তহবিলের অর্থ সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বণ্টনের দাবি জানানো হয়েছে। তহবিল বিতরণের ধাপ কমিয়ে অর্থ যেন সঠিক জায়গায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

জলবায়ু প্রকল্পে তরুণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। স্কুল পর্যায় থেকে জলবায়ুবিষয়ক শিক্ষা চালু করা, পানির অপচয় কমানো, খাবার নষ্ট না করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের সচেতন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবে ভালো ফল দিচ্ছে, সেগুলো অন্য এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু নিয়ে তরুণদের গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহে সহায়তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় যাঁদের কথা শোনা হয় না, তাঁদেরও যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া AUW-এর পরিবেশবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব উদ্যোগও জরুরি। তাঁদের প্রস্তাব, গবেষণা ও স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হতে পারে।